মাংসের টুকরো বেশি খাওয়া নিয়ে বিবাদ! বন্ধুকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় যা ফাঁস হলো জানলে শিউরে উঠবেন

মুরগির মাংস খাওয়াকে কেন্দ্র করে সামান্য কথা কাটাকাটি থেকে শুরু হওয়া বিবাদ কীভাবে চরম রূপ নিতে পারে, কর্ণাটকের বেলাগাভি জেলার একটি নৃশংস ঘটনা তার এক জলজ্যান্ত প্রমাণ। মাংসের টুকরো বেশি খাওয়াকে কেন্দ্র করে বন্ধুর হাতেই খুন হতে হলো অপর এক যুবককে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় গভীর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের বেলাগাভি জেলার মুদালাগি তালুকের একটি গ্রামে। মৃত যুবকের নাম সীতারাম, যিনি মূলত উত্তরপ্রদেশের পিলিভিটের কবিরগঞ্জের বাসিন্দা ছিলেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত যুবকের নাম অরুণ কুমার, যিনি একই গ্রামের বাসিন্দা এবং দুজনেই স্থানীয় একটি স্টিল কোম্পানিতে একসঙ্গে চাকরি করতেন। ঘটনার দিন রাতে দুই বন্ধু মিলে একটি ছোটখাটো পার্টির আয়োজন করেছিলেন এবং একসঙ্গে আনন্দ করার সময় আচমকাই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, পার্টি চলাকালীন অরুণ খেয়াল করেন যে তাঁকে না জানিয়েই সীতারাম প্লেট থেকে একের পর এক মাংসের টুকরো খেয়ে নিচ্ছেন। মাংসের মাত্র কয়েকটি টুকরো বেশি খাওয়া কেন্দ্র করেই সীতারাম ও অরুণের মধ্যে প্রথমে তীব্র কথা কাটাকাটি এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি এতদূর গড়ায় যে, রাগের বশে অরুণ কাছে থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে সীতারামকে উপর্যুপরি কোপাতে শুরু করেন, যার ফলে ঘটনাস্থলেই ওই যুবকের মারাত্মক জখম হন।

তবে অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এক অদ্ভুত ও ধূর্ত পরিকল্পনা করেছিল অভিযুক্ত অরুণ। রক্তাক্ত সীতারামকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে সে চিকিৎসক ও স্থানীয়দের জানায় যে, সীতারাম নাকি ছাদ থেকে অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। কিন্তু হাসপাতাল থেকে মৃতদেহের ময়নাতদন্তে পাঠানোর পরেই পুলিশের মনে গভীর সন্দেহের দানা বাঁধে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক রিপোর্ট এবং আঘাতের ধরণ দেখে পুলিশের সন্দেহ আরও জোরালো হয়। এরপরই অভিযুক্ত অরুণকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। দীর্ঘ জেরার মুখে আর শেষরক্ষা হয়নি; পুলিশের কাছে নিজের বন্ধুকে ঠান্ডা মাথায় খুনের কথা স্বীকার করে নেয় অরুণ। এই নৃশংস ঘটনায় ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *