আমেরিকা প্রবাসী ভারতীয়দের কপালে ফের চিন্তার ভাঁজ! H-4 ভিসার ওপর বড়সড় কোপ বসাতে চলেছেন ট্রাম্প?

H-1বি (H-1B) ভিসা নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর এবার এইচ-৪ (H-4) ভিসার ক্ষেত্রেও বড়সড় কোপ বসাতে চলেল মার্কিন প্রশাসন। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসা হোল্ডারদের স্বামী বা স্ত্রীদের জন্য এতদিন ধরে চলে আসা ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতি বাতিল করা হতে পারে। যদিও এই বিষয়টি এই মুহূর্তে শুধুমাত্র একটি নীতিগত প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবুও এই প্রস্তাব কার্যকর হলে মার্কিন মুলুকে বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা নিয়মে বড় ধরনের বদল আসবে। আর এর জেরে সবচেয়ে বেশি এবং সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে আমেরিকা প্রবাসী ভারতীয়দের ওপরই।

আমেরিকায় কাজের উদ্দেশ্যে অন্যান্য দেশের নাগরিকদের মূলত এইচ-১বি ভিসা দেওয়া হয়। তবে দম্পতিদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা আলাদা। সাধারণত স্বামী এইচ-১বি ভিসায় আমেরিকায় কর্মরত থাকলে তাঁর স্ত্রী বা স্বামী এইচ-৪ ডিপেন্ডেন্ট ভিসা পেয়ে থাকেন। এতদিন নির্দিষ্ট নিয়মে এই সমস্ত এইচ-৪ ভিসা হোল্ডাররা এমপ্লয়মেন্ট অথোরাইজেশন ডকুমেন্ট বা ইএডি (EAD) কার্ডের মাধ্যমে মার্কিন মুলুকে বৈধভাবে চাকরি করার সুযোগ পেতেন। কিন্তু বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন সেই ইএডি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে তৎকালীন ওবামা প্রশাসন নির্দিষ্ট কিছু এইচ-৪ ভিসা হোল্ডারের জন্য আমেরিকায় আইনগতভাবে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছিল। মূলত যে সমস্ত এইচ-১বি ভিসা হোল্ডার দীর্ঘমেয়াদী গ্রিন কার্ড (Green Card) পাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন, তাঁদের যোগ্য জীবনসঙ্গীরাই এই ইএডি-র জন্য আবেদন করতে পারতেন। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবটি যদি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়, তবে ২০১৫ সালের সেই পুরোনো নিয়ম সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ভিসা হোল্ডাররা আর কাজের অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

পরিসংখ্যান বলছে, মার্কিন প্রশাসনের এই संभावित সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় কোপ পড়বে ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারগুলির ওপর। বিগত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যতগুলি এইচ-৪ ইএডি অনুমোদন করা হয়েছিল, তার প্রায় ৯৩ শতাংশই ছিল ভারতীয়দের অনুকূলে। এর মধ্যে প্রায় ৯৪ শতাংশ আবেদনকারীই ছিলেন মহিলারা। এছাড়া মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS)-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবর্ষে অনুমোদিত মোট এইচ-১বি পিটিশনের প্রায় ৭১ শতাংশই ছিল ভারতীয় নাগরিকদের নামে। ফলে এই নীতি বাস্তবায়িত হলে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় পরিবার চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ এটি এই মুহূর্তে কেবলই একটি প্রস্তাব, কোনো চূড়ান্ত বা পাকা নিয়ম নয়। ফলে যাঁদের হাতে বর্তমানে বৈধ ইএডি কার্ড রয়েছে, তাঁরা আগের মতোই আমেরিকায় নির্বিঘ্নে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। যতদিন না পর্যন্ত চূড়ান্ত নিয়ম বা নির্দেশিকা প্রকাশিত হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত পুরোনো নিয়মে কোনো পরিবর্তন আসছে না।

সহজ কথায়, এইচ-৪ নিজে কোনো স্বাধীন ওয়ার্ক ভিসা নয়। এইচ-১বি ভিসা হোল্ডারদের স্বামী, স্ত্রী এবং সন্তানরা তাঁদের সঙ্গে আমেরিকায় বসবাস করার জন্য এই এইচ-৪ ভিসা পান। কিন্তু সেখানে স্বাধীনভাবে চাকরি করতে গেলে আলাদা করে ইএডি প্রয়োজন হয়। বর্তমান নিয়মে সমস্ত এইচ-৪ ভিসা হোল্ডাররা কাজের অনুমতি পান না, শুধুমাত্র যাঁদের জীবনসঙ্গী গ্রিন কার্ড পাওয়ার নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন, তাঁরাই এই সুবিধা ভোগ করেন। ইএডি না থাকলে আমেরিকায় বসবাস করা সম্ভব হলেও আইনসম্মতভাবে চাকরি করা যায় না। নতুন এই প্রস্তাব ঘিরে এখন প্রবাসী ভারতীয় মহলে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *