এক নিঃশ্বাসে এক লিটার জল খাচ্ছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন কিডনির মারাত্মক বিপদ, জানুন আসল সত্যি!

জল শরীরের জন্য অমৃত সমান, এ কথা আমরা সবাই জানি। সুস্থ থাকার জন্য চিকিৎসকরাও প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে জল খাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের কিছু ভুল অভ্যাস অজান্তেই শরীরের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকেই তেষ্টা পেলেই একবারে এক লিটার বা তার বেশি জল এক নিঃশ্বাসে খেয়ে ফেলেন। কিন্তু এই অভ্যাসটি কি আদৌ শরীরের জন্য ভালো? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে বড় কোনো বিপদ?
জল পানে কীভাবে কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হয়?
সাধারণত সারাদিন ধরে সঠিক পরিমাণে জল পান করলে কিডনি তা ফিল্টার করে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে তখনই, যখন খুব কম সময়ে একসঙ্গে অনেকটা জল দ্রুত পান করা হয়। একসঙ্গে অতিরিক্ত জল শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি তা দ্রুত বের করতে পারে না। এর ফলে রক্তের সঙ্গে সোডিয়ামের (লবণ) মাত্রা মারাত্মকভাবে কমে যায়, যাকে চিকিৎসা পরিভাষায় ‘হাইপোনেট্রিমিয়া’ (Hyponatremia) বলা হয়।
রক্তে সোডিয়াম কমলে কী কী মারাত্মক লক্ষণ দেখা দেয়?
আমাদের শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং স্নায়ু ও পেশির সঠিক কার্যকারিতায় সোডিয়ামের ভূমিকা অপরিসীম। রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমে গেলে কোষ এবং মস্তিষ্কের ভেতরে অতিরিক্ত জল ঢুকে ফোলাভাব সৃষ্টি করে। এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো হলো—
-
তীব্র মাথাব্যথা ও বমি ভাব
-
চরম ক্লান্তি ও বিভ্রান্তি
-
পেশিতে খিঁচুনি
-
এমনকি অবস্থা গুরুতর হলে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।
সঠিক নিয়ম কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একবারে অনেকটা জল গিলে না খেয়ে, সারাদিন ধরে অল্প অল্প করে জল পান করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়। বিশেষ করে যাদের কিডনি বা হার্টের সমস্যা রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ মেনেই জল খাওয়া উচিত। প্রবাদেও রয়েছে, ‘অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়’। তাই সুস্থ থাকতে জলের সঠিক নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।