শোয়ার ঘরটাই হয়ে উঠেছিল জিম থেকে কান্নার কক্ষ! ‘খতরোঁ কে খিলাড়ি’ শেষ হতেই বিস্ফোরক ওরি

পাপারাৎজির ঝলমলে ক্যামেরা, হাই-প্রোফাইল পার্টি আর সোশ্যাল মিডিয়ার রঙিন দুনিয়া—সবকিছুর বাইরে সম্পূর্ণ অন্য এক চেনা ছকের বাইরে গিয়ে ধরা দিলেন ইন্টারনেট সেন্সেশন ওরহান আওয়াতরামণি অর্থাৎ ওরি। জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো ‘খতরোঁ কে খিলাড়ি’-র শুটিংয়ের সুবাদে একটানা ৪৫ দিন যে সাধারণ চার দেওয়ালের মধ্যে তাঁকে কাটাতে হয়েছিল, সেই রুমের অন্দরমহলের কিছু অজানা স্মৃতি শেয়ার করে নস্ট্যালজিক হয়ে পড়েছেন তিনি। গ্ল্যামার দুনিয়ার সমস্ত চাকচিক্য দূরে সরিয়ে রেখে সেই দিনগুলির আবেগঘন অভিজ্ঞতা ইনস্টাগ্রামে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন ওরি।
যে ঘর একাধারে বেডরুম থেকে জিম ও ‘ব্রেকডাউন রুম’!
ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ছবিগুলোতে দেখা গেছে সেই ছোট্ট ঘরটি, যা দীর্ঘ ৪৫ দিন ধরে ওরির পুরো দুনিয়া হয়ে উঠেছিল। ওরি নিজেই খোলামেলাভাবে জানিয়েছেন যে, ওই একটা মাত্র রুমই তাঁর কাছে একাধারে বেডরুম, ড্রেসিং রুম, ডাইনিং রুম, অফিস, জিম, কফি শপ এবং মাঝেমধ্যে মানসিক চাপ ও অবসাদ ঝেড়ে ফেলার ‘ব্রেকডাউন রুম’-এ পরিণত হয়েছিল। ক্যামেরার পিছনের সেই কঠিন রুটিন, শারীরিক ক্লান্তি এবং প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করার টুকরো টুকরো স্মৃতি আজ তাঁকে নস্ট্যালজিক করে তুলেছে।
রোহিত শেট্টির উদ্দেশ্যে আবেগঘন বার্তা:
শো-এর হোস্ট ও নির্দেশক রোহিত শেট্টির উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠিতে ওরি লিখেছেন, “আমার কাছে বাড়ি এমন কোনো জায়গা নয় যা আপনি নিজে বেছে নেন, বাড়ি হল ঠিক সেই জায়গা যেখানে আপনি কাজের শেষে মাথাটা এলিয়ে একটু জিরিয়ে নেন।” শুটিংয়ের প্রথম দিকে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল কবে এই কঠিন বন্দিদশা কাটবে এবং কবে তিনি এখান থেকে পালিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু শিডিউল শেষ হওয়ার পর, অদ্ভুতভাবে সেই পুরোনো রুটিনটাকেই আবার তীব্রভাবে মিস করতে শুরু করেছেন তিনি।
ওরির এই মনখোলা স্বীকারোক্তি স্পষ্ট করে দেয় যে, খতরোঁ কে খিলাড়ির এই রোমাঞ্চকর ও কঠিন সফর তাঁর কাছে কেবলই কোনো সাধারণ স্টান্ট রিয়ালিটি শো ছিল না, বরং এটি ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা ও নিজের ভেতর এক নতুন মানুষকে আবিষ্কার করার একটি আত্মিক যাত্রা।