নাগপুর বাদ! মধ্যপ্রদেশে কোন বড় মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে নামছেন রাহুল গান্ধী? শোরগোল রাজনৈতিক মহলে

পুণের পর কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বহুল আলোচিত ‘ছাত্রোঁ কি গূঞ্জ’ (ছাত্রদের কণ্ঠস্বর) কর্মসূচি প্রথমে নাগপুরে হওয়ার কথা থাকলেও, শেষমুহূর্তে তা বদল করা হয়েছে। পরিকল্পনা বদলে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর এই মেগা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে মহারাণী অহिल्याবাই হোলকরের ঐতিহাসিক শহর ইন্দোরে। আর এই স্থান নির্বাচনের মধ্য দিয়েই মূলত বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)-কে সরাসরি এক হাত নেওয়ার মাস্টারপ্ল্যান সাজিয়েছে কংগ্রেস।
অহिल्याবাইয়ের আদর্শে নারী শক্তির টার্গেট:
১৮ শতকে নারী ক্ষমতায়ন এবং তাঁদের অধিকার রক্ষায় অনন্য নজির গড়েছিলেন মহারাণী অহिल्याবাই হোলকর। সে যুগে দাঁড়িয়ে তিনি মহিলাদের সম্পত্তি ও পুনর্বিবাহের অধিকার, সতীদাহ প্রথার মতো কুপ্রথার বিরোধিতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (যেমন মহেশ্বরী শাড়ির প্রবর্তন), এমনকি মহিলা সৈন্য বাহিনী পর্যন্ত গঠন করেছিলেন। ইন্দোর সেই বীর নারীরই পবিত্র ভূমি। আর সেই আদর্শকে সামনে রেখেই এবার সরাসরি মহিলা ভোটারদের মন জয় করার পাশাপাশি বিজেপি-আরএসএস শিবিরকে কোণঠাসা করার কৌশল নিয়েছে কংগ্রেস।
মনুস্মৃতি বনাম সংবিধান লড়াই:
এর আগে পুণেতে রাহুল গান্ধী মনুস্মৃতিকে ‘মহিলা বিরোধী’ বলে অভিহিত করে বিজেপি-আরএসএস-এর আদর্শকে তার দ্বারাই প্রভাবিত বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এর পাল্টা জবাবে কংগ্রেসও সরব হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সংবিধান রচনার সময় সঙ্ঘ পরিবারের পক্ষ থেকে সংবিধানের বদলে মনুস্মৃতিকে ভিত্তি করার দাবি উঠেছিল। এই ইস্যুকে হাতিয়ার করেই যুব কংগ্রেস এর আগে দিল্লিতে আরএসএস হেডকোয়ার্টারের বাইরে মনুস্মৃতির প্রতিলিপি দাহ করেছিল এবং দেশজুড়ে বিজেপির কার্যালয়ের সামনে একই কর্মসূচি নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
এবার ইন্দোরের মতো শিল্প ও শিক্ষার বড় হাব থেকে রাহুল গান্ধী নারী ক্ষমতায়নের ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ টেনে সরাসরি বিজেপি-আরএসএস শিবিরকে আক্রমণ করতে চলেছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কর্মসূচির হাত ধরে আগামী দিনে ‘সংবিধান বনাম মনুস্মৃতি’র তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র রূপ ধারণ করতে চলেছে।