ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে এই ভুল করলেই অ্যাকাউন্ট ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দুটোই সাফ হয়ে যাবে! সরকারের জরুরি সতর্কতা

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় একটু খামখেয়ালিপনা বা ভুল পদক্ষেপ আপনার সারাজীবনের জমানো অর্থ নিমেষে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে ছড়িয়ে পড়া কিছু বিপজ্জনক ম্যালওয়্যার ও ফিশিং স্ক্যাম নিয়ে অ্যান্ড্রয়েড (Android) ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত কঠোর ও জরুরি সাইবার সিকিউরিটি অ্যালার্ট জারি করেছে ভারত সরকার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার’ (I4C)-এর ন্যাশনাল সাইবারক্রাইম থ্রেট অ্যানালিটিক্স ইউনিট (NCTAU) এই মর্মে সতর্কবার্তা জারি করেছে।

ঠিক কীভাবে পাতা হচ্ছে এই ফাঁদ?

সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাইবার অপরাধীরা মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় লোভনীয় বা প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী অশালীন কনটেন্টের বিজ্ঞাপন দিয়ে টোপ দেয়। সেই সমস্ত বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলেই ব্যবহারকারীদের কোনো সন্দেহজনক থার্ড-পার্টি ওয়েবসাইটে রিডাইরেক্ট করা হয়। সেখানে কোনো ভিডিও বা বিশেষ কনটেন্ট দেখতে পাওয়ার শর্ত হিসেবে একটি APK ফাইল ডাউনলোড করতে বলা হয়।

গুগল প্লে-স্টোরের (Google Play Store) বাইরে থেকে ডাউনলোড করা এই APK ফাইলগুলি ফোনে ইনস্টল হওয়ামাত্রই আসল বিপত্তি শুরু হয়।

কেন এই অ্যাপগুলি মারাত্মক خطرناک?

  • ডেটা এবং ব্যাংকিং চুরি: এই ম্যালওয়্যারগুলি ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে গোপনে কাজ করতে শুরু করে এবং ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড এমনকি ব্যাংক ও ইউপিআই (UPI) লেনদেনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

  • অ্যাক্সেসিবিলিটি পারমিশন (Accessibility Access): একবার ইনস্টল হয়ে গেলে এই অ্যাপগুলি ফোনের অ্যাক্সেসিবিলিটি পারমিশন হাতিয়ে নেয়, যার ফলে হ্যাকাররা দূর থেকেই আপনার ফোন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

  • মুছে ফেলাও কঠিন: কিছু বিশেষ ম্যালওয়্যার এতটাই শক্তিশালী হয় যে সেগুলিকে সাধারণ উপায়ে ফোন থেকে আনইনস্টল বা ডিলিট করাও বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়।

সরকারি নির্দেশিকা ও বাঁচার উপায়:

  • অপরিচিত কোনো ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপনে থাকা থার্ড-পার্টি APK ফাইল ভুলেও ডাউনলোড বা ইনস্টল করবেন না।

  • সবসময় গুগল প্লে-স্টোর বা অ্যাপলের অফিশিয়াল স্টোর থেকে যাচাই করা অ্যাপগুলিই ব্যবহার করুন।

  • অজানা কোনো অ্যাপকে ফোনের ‘অ্যাক্সেসিবিলিটি’ বা অতিরিক্ত পারমিশন দেবেন না।

  • আপনার ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে নিয়মিত নজর রাখুন এবং কোনো অপরিচিত বা সন্দেহজনক লেনদেন চোখে পড়লেই অবিলম্বে ব্যাংক বা সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন নম্বরে (১৯৩০) যোগাযোগ করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *