কোভিডের পর ফের থাবা বসাচ্ছে মারণ সোয়াইন ফ্লু! কোন মারাত্মক ভুলগুলো করলেই বিপদ ডেকে আনবেন?

কোভিড মহামারীর পর এবার চিকিৎসকদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে সোয়াইন ফ্লু (Swine Flu) বা H1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জা। দিল্লি, মুম্বই এবং বেঙ্গালুরুর মতো বড় শহরগুলিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। শ্বাসকষ্ট এবং তীব্র ইনফ্লুয়েঞ্জার উপসর্গ নিয়ে বহু রোগীই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের মিউটেশন ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এটি খুব দ্রুত নিজের চরিত্র ও রূপ বদলাতে পারে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে যে প্রজাতিটি ছড়িয়ে পড়েছে তা হলো—এ/ মিসৌরি/ ১১/ ২০২৫ এইচ১এন১ পিডিএম০৯। গত বছরও এই প্রজাতিটি সক্রিয় ছিল। এই বিপজ্জনক সংক্রমণ থেকে নিজেকে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে কলকাতার প্রখ্যাত চিকিৎসক ডঃ এস এ মল্লিক কিছু সুনির্দিষ্ট ‘করণীয়’ এবং ‘বর্জনীয়’ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
সোয়াইন ফ্লু থেকে বাঁচতে কী করবেন?
১) সাবান ও জল দিয়ে নিয়মিত হাত পরিষ্কার করুন কিংবা প্রয়োজনমতো স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। ২) হাঁচি বা কাশির সময় অবশ্যই রুমাল অথবা কনুই ভাঁজ করে মুখ ও নাক ঢেকে রাখুন। ৩) যাঁরা ইতিমধ্যেই অসুস্থ বা সংক্রমিত, তাঁদের সংস্পর্শ বা কাছাকাছি আসা এড়িয়ে চলুন। ৪) নিজে অসুস্থ বোধ করলে ঘরের বাইরে না বেরিয়ে বাড়িতেই থাকুন, অন্যথায় ভিড়ের মধ্যে রোগ আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং সেকেন্ডারি ইনফেকশনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ৫) শরীর হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল, ডাবের জল বা অন্যান্য তরল পানীয় গ্রহণ করুন। রক্তচাপ কম থাকলে এবং কিডনি বা হার্টের সমস্যা না থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওআরএস (ORS) খেতে পারেন। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি বা হৃদরোগের সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। ৬) উপসর্গ গুরুতর হলে বা কোমর্বিডিটি (কমোর্বিডিটি) থাকলে একেবারেই দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। ৭) চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফ্লু-এর ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক গ্রহণ করুন।
কোন ভুলগুলি একেবারেই করবেন না?
১) ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন বা পরামর্শ ছাড়া ভুলেও নিজে থেকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না। ২) জ্বর বা ফ্লু-এর সামান্য উপসর্গ থাকলেও ভুলেও ভিড় বা জনবহুল এলাকায় যাবেন না। ৩) নিজের ব্যক্তিগত তোয়ালে, রুমাল, জল খাওয়ার গ্লাস বা কাপ অন্য কারও সঙ্গে ভাগ করে ব্যবহার করবেন না। ৪) শারীরিক পরিস্থিতি গুরুতর হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে প্রাথমিক অবস্থাতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ৫) নিজের ইচ্ছেমতো কোনো অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ সেবন করা থেকে বিরত থাকুন।