“২০ হাজার টাকা ঘুষ নিতেই হাত নীল!”-ঘুষ নেওয়ায় অভিযুক্ত সরকারি আধিকারিক

হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় দুর্নীতি দমন শাখার অভিযানে বড়সড় সাফল্য মিলল। ঘুষ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সোমবার উলুবেড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা সাব-রেজিস্ট্রারের (ADSR) দফতর থেকে এক সরকারি আধিকারিককে পাকড়াও করেছে কলকাতার অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চ বা ACB। এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় তাঁকে হাতেনাতে ধরা হয়।
এসিবি সূত্রে জানা গিয়েছে, উলুবেড়িয়ার ওই সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ জমা হচ্ছিল। এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন যে একটি নির্দিষ্ট সরকারি কাজের জন্য তাঁর কাছে বেআইনিভাবে টাকা দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে দুর্নীতি দমন শাখা। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তকে ধরতে বিশেষ ফাঁদ পাতার সিদ্ধান্ত নেন তদন্তকারীরা।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার উলুবেড়িয়ার ADSR অফিসে হানা দেন এসিবি আধিকারিকেরা। পরিকল্পনা মাফিক অভিযোগকারীও সেখানে উপস্থিত হন। এরপর টাকা লেনদেনের ঠিক প্রাক্কালেই অভিযুক্ত আধিকারিককে চেপে ধরে এসিবি দল। অভিযোগকারীর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার মুহূর্তেই তাঁকে পাকড়াও করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই সেই টাকা উদ্ধার করা হয়।
এই অভিযلনে ব্যবহৃত হয় এসিবি-র বিশেষ কৌশল। ঘুষের জন্য যে নোটগুলি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলিতে আগে থেকেই এক ধরনের অদৃশ্য রাসায়নিক পাউডার বা দ্রব্য মাখানো ছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি সেই টাকা হাতে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর হাতে সেই রাসায়নিক লেগে যায়। এরপর এসিবি আধিকারিকেরা তাঁর হাত একটি নির্দিষ্ট রাসায়নিক দ্রবণে ডোবাতেই তা তাৎক্ষণিকভাবে নীল রঙে বদলে যায়। ঘুষের টাকা লেনদেনের এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ফরেনসিক প্রমাণ, যা তদন্তের কাজকে অনেক বেশি মজবুত করে।
ঘুষ নেওয়ার প্রমাণ হাতেনাতে মেলার পরেই অভিযুক্ত আধিকারিককে আটক করা হয়। তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ইতিমধ্যেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুর্নীতি দমন শাখা। ঠিক কী কারণে ওই ব্যক্তির কাছে টাকা চাওয়া হয়েছিল এবং এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সরকারি দফতরে দুর্নীতির এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।