সকালে যে জুতো পরে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন, বিকেলে সেটাই টাইট হয়ে যাচ্ছে কেন? আসল রহস্য জানলে চমকে যাবেন!

সকালে নতুন জুতো কেনার সময় যা একদম মাপে মাপে ফিট হয়েছিল, সেটাই আবার সন্ধ্যার দিকে পরতে গেলে সামান্য আঁটসাঁট বা টাইট ঠেকে— এমন অভিজ্ঞতা কি আপনারও হয়েছে? অনেকেই একে জুতোর দোষ বা সাময়িক ক্লান্তি বলে এড়িয়ে যান। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পেছনে কাজ করছে সম্পূর্ণ আলাদা এবং বেশ চমকপ্রদ একটি বৈজ্ঞানিক কারণ। আর তা হলো আমাদের পৃথিবীর অমোঘ ‘মহাকর্ষ বা গ্র্যাভিটি’ (Gravity)!
পায়ের আকার কি সারাদিন একই থাকে?
আমাদের মানুষের পা বা শরীরের নিচের অংশ সারাদিন একটানা একই আকারে থাকে না। আপনি যখন সারাদিন ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন কিংবা সোজা হয়ে বসে অফিসের কাজ করেন, তখন মহাকর্ষ বলের কারণে শরীরের নিচের অংশের রক্তনালীগুলিতে ‘হাইড্রৌস্ট্যাটিক প্রেশার’ বা জলীয় চাপ অনেকটাই বেড়ে যায়।
এই অতিরিক্ত চাপের ফলে রক্তনালী থেকে সামান্য পরিমাণে তরল বা ফ্লুইড তার আশেপাশের টিস্যুতে বা কলার মধ্যে লিক করে চলে যায়। যার প্রত্যক্ষ ফলস্বরূপ আমাদের পা এবং পায়ের নিচের অংশের আয়তন বা ভলিউম সাময়িকভাবে কিছুটা বৃদ্ধি পায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে সাময়িক ফোলাভাব বা ফ্লুইড রিটেনশন বলা যেতে পারে, যা একেবারে স্বাভাবিক একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
সন্ধ্যার দিকে কেন জুতো বেশি আঁটসাঁট লাগে?
সকালের দিকে সারা রাতের বিশ্রামের পর আমাদের শরীরে এই তরল জমা হওয়ার সুযোগ থাকে না, ফলে পা স্বাভাবিক মাপে থাকে। কিন্তু দীর্ঘ সময় হাঁটাচলা বা কাজ করার পর মহাকর্ষের টানে শরীরের নিচের অংশে রক্ত ও তরল পদার্থের এই সাময়িক জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়ে। এর ফলে বিকালের বা সন্ধ্যার দিকে পায়ের পাতার পরিধি সামান্য হলেও বেড়ে যায়। আর ঠিক সেই কারণেই সকালে আরামদায়ক লাগা জুতোটিই সন্ধ্যার সময় পায়ে গলাতে গেলে খানিকটা অস্বস্তি বা টাইট অনুভূত হয়।
সুতরাং, সারাদিনের ধকলের পর পা ভারী হয়ে যাওয়া বা জুতো আঁটসাঁট লাগার এই ঘটনার জন্য জুতো প্রস্তুতকারক সংস্থাকে দোষ না দিয়ে প্রকৃতির এই অদ্ভুত নিয়মকেই সাধুবাদ জানাতে পারেন!
বিশেষ দ্রষ্টব্য: দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ এই শারীরিক পরিবর্তনগুলির পেছনে লুকিয়ে থাকা বিজ্ঞান আমাদের শরীরকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে। তবে সন্ধ্যার দিকে পায়ের এই ফোলাভাব যদি অস্বাভাবিক মাত্রায় বেশি হয়, তবে তা কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।