‘বিকশিত ভারত’ গড়তে মাস্টারস্ট্রোক! ডিফেন্স পিএসইউগুলিকে বড় নির্দেশ দিয়ে কী বললেন রাজনাথ সিং?

‘বিকশিত ভারত’ (Viksit Bharat)-এর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে দেশের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে তোলার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। রবিবার লখনউয়ে আয়োজিত ‘পিএম-সেটু’ (PM-SETU) শিল্প কনক্লেভে যোগ দিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের পাবলিক সেক্টর কোম্পানিগুলিকে এই উদ্যোগে শামিল হওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
যুবশক্তিকে উৎপাদন শক্তিতে রূপান্তর
কেন্দ্রীয় দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা মন্ত্রক (MSDE) এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কনক্লেভে রাজনাথ সিং বলেন, দেশের জনসংখ্যাতাত্ত্বিক লভ্যাংশকে সঠিক উৎপাদন শক্তিতে রূপান্তরিত করার মূল চাবিকাঠি হলো দক্ষ কর্মী বাহিনী তৈরি করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সার্টিফিকেট তখনই আসল মূল্য পায় যখন তা যুবকদের নিশ্চিত কর্মসংস্থানের দিকে নিয়ে যায়। শিল্প সংস্থাগুলিকে নিছক একটি সরকারি প্রকল্প না ভেবে এটিকে একটি যৌথ মিশন হিসেবে দেখার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL), ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL), ভারত ডাইনামিক্স লিমিটেড (BDL), ব্রেমোস অ্যারোস্পেসের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্তারা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কনক্লেভে জানানো হয়েছে যে, পিএম-সেটু প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যেই ৫টি রাজ্যের ৭টি ক্লাস্টারে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকারও বেশি শিল্প-নেতৃত্বাধীন বিনিয়োগের প্রস্তাব জমা পড়েছে।
প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিতে ভবিষ্যৎমুখী দক্ষতা
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান যে, বিশ্বমানের ম্যানুফ্যাকচারিং এবং প্রযুক্তি হাব হয়ে ওঠার পথে ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ অপরিহার্য। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা উৎপাদন, মহাকাশ গবেষণা, ইলেকট্রনিক্স, ড্রোন, রোবোটিক্স এবং প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো ক্ষেত্রগুলিতে আগামী দিনে ভবিষ্যৎমুখী দক্ষতার প্রয়োজন হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কেন্দ্রীয় দক্ষতা উন্নয়ন মন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরীও বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন যে, পিএম-সেটু প্রকল্প সরকার, শিল্প এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে একটি নতুন অংশীদারিত্বের মডেল গড়ে তুলবে, যা প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মাঝের দূরত্ব ঘুচিয়ে দেবে।
উত্তরপ্রদেশের প্রশংসা করে রাজনাথ সিং বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে উত্তরপ্রদেশ ডিফেন্স করিডোরের হাত ধরে আজ দেশের অন্যতম প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। শিল্প এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই মেলবন্ধনই দেশের তরুণ প্রজন্মকে আগামী দিনের জন্য প্রস্তুত করে তুলবে বলে তিনি আশাবাদী।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এবং আত্মনির্ভরতার পথে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে তুলতে সরকারের এই সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।