৩২ হাজার দৌড়বিদ আর ২৩টি দেশ! হায়দরাবাদ ম্যারাথনের অবিশ্বাস্য উন্মাদনা তাক লাগাল টেক শহরকে

রোমাঞ্চকর পরিবেশ এবং হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে রবিবার এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল হায়দরাবাদ শহর। দেশের অন্যতম বৃহত্তম ও জনপ্রিয় ১৫তম ‘এনএমডিসি হায়দরাবাদ ম্যারাথন’ (NMDC Hyderabad Marathon)-এ অংশ নিয়েছিলেন তেলঙ্গানা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং বিদেশ থেকে আসা হাজার হাজার দৌড়বিদ। নেকলেস রোডের পিপলস প্লাজা থেকে শুরু হওয়া এই ম্যারাথন গিয়ে শেষ হয় গাছিবাউলি স্টেডিয়ামে।
রেকর্ড সংখ্যক অংশগ্রহণ ও রুট
সংগঠকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের ম্যারাথনে মোট ৩২,০০০ রেজিস্ট্রেশন জমা পড়েছিল। ভারত ছাড়াও বিশ্বের মোট ২৩টি দেশের অ্যাথলেটরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ফুল ম্যারাথন শুরু হয় ভোর সাড়ে চারটে এবং হাফ ম্যারাথন শুরু হয় সকাল সাড়ে পাঁচটায়। জিএইচএমসি কমিশনার আরভি করণের পতাকা নাড়ার মাধ্যমে দৌড় শুরু হয়। দৌড়বিদরা হুসেন সাগর হ্রদ, লোক ভবন, কেভিআর পার্ক, জুবিলি হিলস, দুর্গাম চেরুভু কেবল ব্রিজ এবং বায়োডাইভারসিটি জংশন হয়ে গাছিবাউলি স্টেডিয়ামে পৌঁছান।
বিজয়ীদের তালিকা
-
মহিলাদের এলিট ক্যাটাগরি: ইথিওপিয়ার ইমানে সেইফু ২ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ইথিওপিয়ারই ত্সেগা দেস্তা দ্বিতীয় এবং কেনিয়ার তেরেসিয়া ওমোসা তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন নির্মাবেন ঠাকুর (সময় ২ ঘণ্টা ৫০ মিনিট ২০ সেকেন্ড)।
-
পুরুষদের এলিট ক্যাটাগরি: ইথিওপিয়ার সেবোকো নেগুসে ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন। কেনিয়ার ফেলিক্স কিমুতাইও ঠিক একই সময় নিয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করেন। ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে সেরা হয়ে সার্বিকভাবে চতুর্থ স্থান অধিকার করেন গোপী তোনকাল (সময় ২ ঘণ্টা ২১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড)।
বিশেষ আকর্ষণ: উপজাতীয় তরুণদের অংশগ্রহণ
এবারের ম্যারাথনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ছত্তিশগড় থেকে আসা ১৮৪ জন উপজাতীয় তরুণ দৌড়বিদের অংশগ্রহণ, যেখানে এনএমডিসি তাদের খনি প্রকল্প পরিচালনা করে। জীবনের প্রথমবার এত বড় ম্যারাথনে অংশ নিয়ে দারুণ উৎসাহিত তাঁরা। সফল বিজয়ীদের হাতে সম্মানজনক পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং আন্তর্জাতিক মানের এই ম্যারাথন আয়োজন হায়দরাবাদের ক্রীড়া প্রেমীদের মনে গভীর রেখাপাত করেছে।