ভাইকে বাঁচাতে ঝাঁপ, শেষরক্ষা হলো না! তিন যুবতীর প্রাণহানির ঘটনায় শোকের ছায়া এলাকায়

সেলফি তোলার মারাত্মক নেশা কীভাবে একটি পরিবারের সুখ কেড়ে নিতে পারে, তার এক মর্মান্তিক দৃষ্টান্ত দেখা গেল রাজস্থানে। ধৌলপুর জেলার অঙ্গাই থানা এলাকার ধোধ বীরজা গ্রামের একটি পুকুরের ধারে সেলফি তোলার সময় জলে পড়ে যায় এক কিশোর। তাকে বাঁচাতে গিয়ে একে একে জলে ঝাঁপ দেন তাঁর দুই বোন ও এক পিসতুতো বোন। শেষ পর্যন্ত জলের গভীরতা ও স্রোতের টানে তিন তরুণীরই সলিলসমাধি ঘটে।
ঠিক কী ঘটেছিল ধৌলপুরে?
সূত্রের খবর, নাথুয়া পুরা গ্রাম থেকে একটি পরিবার ধোধ বীরজা গ্রামের কাছে একটি মন্দিরে ধর্মীয় আচার ও পুজো দিতে গিয়েছিল। ১৫ বছর বয়সি ভোলু ওরফে রবি মন্দিরের পাশের একটি পুকুরের ধারে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ভঙ্গিমায় সেলফি তুলছিল। সেই সময় হঠাৎ পা পিছলে সে গভীর জলে তলিয়ে যেতে শুরু করে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করেন।
ভাইকে বাঁচাতে কোনোরকম দ্বিধা না করে সঙ্গে সঙ্গে পুকুরে ঝাঁপ দেন তার দুই বোন— মনোরমা ও বোটো এবং তাদের তুতো বোন কাল্লো। কিন্তু পুকুরের জলের গভীরতা এতটাই বেশি ছিল যে, চারজনই তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় অঙ্গাই থানার পুলিশ।
এসএইচও কৃপাল সিংয়ের নেতৃত্বে স্থানীয় ডুবুরি ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF) উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর এসডিআরএফ ও ডুবুরিরা তিন তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করেন। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য বাড়ি সরকারি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে ভোলুর খোঁজে তল্লাশি অভিযান তখনও জারি ছিল।
চাম্বল নদীতেও আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
এদিকে রাজস্থানের বুন্দি জেলার ইন্দ্রগড় এলাকায় চাম্বল নদীতে ঘটে যাওয়া আরেকটি পৃথক দুর্ঘটনায় ৩২ বছর বয়সি ওমপ্রকাশ সেন নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ইন্দ্রগড়ের চানাদা গ্রামের কাছে চাম্বল নদীতে স্নান করতে নেমে গভীর জলে তলিয়ে যান তিনি। শনিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ হওয়ার পর রবিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূর থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে উদ্ধারকারী দল।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: অসাবধানতা ও জলাশয়ের ধারে সেলফি তোলার মতো ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, রাজস্থানের এই পরপর দুটি মর্মান্তিক ঘটনা ফের তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।