৩৫ হাজার কোটি থেকে সোজা ৪ ট্রিলিয়ন ডলার! বিদায়বেলায় অ্যাপলকে কোন উচ্চতায় পৌঁছে দিলেন টিম কুক?

আর মাত্র একটি দিনের অপেক্ষা। তারপরই আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপেলের (Apple) প্রধান নির্বাহী বা সিইও (CEO) পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন টেক জগতের অন্যতম সফল ব্যক্তিত্ব টিম কুক (Tim Cook)। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন জন টার্নাস। যদিও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আইফোন ১৮ (iPhone 18) সিরিজ লঞ্চের মূল মঞ্চে এখনও আকর্ষণ হিসেবে থাকতে পারেন খোদ টিম কুকই।
স্টিভ জবসের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে অ্যাপলকে তিনি যে উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন, তা এককথায় অভূতপূর্ব। তাঁর নেতৃত্বে অ্যাপলের জনপ্রিয়তা ও ব্যবসা আকাশছোঁয়া সাফল্য দেখেছে। টিম কুকের বিদায়ের মুহূর্তে একনজরে দেখে নেওয়া যাক এমন ৫টি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, যা অ্যাপলকে বিশ্বের অন্যতম সেরা টেক জায়ান্টে পরিণত করেছে:
১. ৩৫০ বিলিয়ন থেকে ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য
স্টিভ জবসের হাত ধরে অ্যাপল যখন দায়িত্ব নেন টিম কুক, তখন সংস্থার বাজার মূল্য বা ভ্যালুয়েশন ছিল ৩৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর আজ তাঁর আমলেই সেই সংস্থা ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। কুকের নেতৃত্বে অ্যাপলের মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১০০০ শতাংশ!
২. বিশ্বজুড়ে ব্যবসার বিশাল প্রসার
টিম কুকের আমলেই অ্যাপলের ‘গ্লোবাল ফুটপ্রিন্ট’ সবচেয়ে বেশি বিস্তার লাভ করেছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশে অ্যাপলের ডিভাইস বিক্রি হয়। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫০০টি নিজস্ব রিটেল স্টোর এবং ১ লাখ নতুন কর্মী নিয়ে অ্যাপল আজ এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী বিশ্বশক্তি। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন অ্যাকটিভ অ্যাপল ডিভাইস চালু রয়েছে।
###৩. ১০০ বিলিয়ন ডলারের সার্ভিস ব্যবসা শুধু আইফোন বা আইপ্যাড বিক্রি নয়, অ্যাপলের সার্ভিস বিভাগকে (Apple Services) এক অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছেন টিম কুক। বর্তমানে সংস্থার সার্ভিস ব্যবসাই ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।
৪. পরিবেশবান্ধব নীতি ও গোপনীয়তার সুরক্ষা
২০১৫ সালের তুলনায় কার্বন ফুটপ্রিন্ট ৬০ শতাংশেরও বেশি কমিয়েছে অ্যাপল, যদিও এই সময়ে সংস্থার আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। পাশাপাশি, ব্যবহারকারীদের ডেটা সুরক্ষা এবং প্রাইভেসি বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সবসময় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন টিম কুক। তাঁর এই কঠোর মানদণ্ড অ্যাপলকে অন্য সমস্ত প্রযুক্তি সংস্থা থেকে আলাদা করেছে।
৫. অ্যাপল ওয়াচ (Apple Watch) বিপ্লব
আইফোনের পর সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রোডাক্ট ক্যাটেগরি হিসেবে ‘অ্যাপল ওয়াচ’ বাজারে নিয়ে আসেন টিম কুক। ২০১৫ সালে লঞ্চ হওয়া এই ডিভাইসটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেবল একটি স্মার্টওয়াচেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ইসিজি (ECG), ফল ডিটেকশন এবং ক্র্যাশ ডিটেকশনের মতো লাইভ সেভিং ফিচারের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার এক অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: টিম কুকের এই বর্ণাঢ্য কর্মজীবন এবং তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব বিশ্ব প্রযুক্তির ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।