উলটপুরাণ! যে রাশিয়া থেকে তেল কিনত ভারত, এবার সেই যুদ্ধবিধ্বস্ত পুতিনের দেশকেই পেট্রল জোগাচ্ছে মোদী সরকার

বিশ্ব রাজনীতিতে এক অদ্ভুত সমীকরণ দেখল বিশ্ববাসী। এতদিন ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়া থেকে ভারত বিপুল পরিমাণে অপরিশোধিত তেল কিনছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা চলত। তবে এবার ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। ইউক্রেনের লাগাতার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার একাধিক তৈল পরিশোধনাগার ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তীব্র জ্বালানি সঙ্কটে পড়েছে ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ। আর এই চরম বিপদের দিনে রাশিয়াকে বাঁচানোর ত্রাতা হয়ে উঠল ভারত! জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমনটাই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

রেকর্ড পরিমাণ গ্যাসোলিন রফতানি ভারতের

শক্তি সম্পদ বিশ্লেষণকারী সংস্থা ‘ভর্টেক্সা’ (Vortexa)-র তথ্য অনুযায়ী, অগস্ট মাসে রাশিয়া প্রতিদিন ১ লক্ষ ২৫ হাজার ব্যারেল গ্যাসোলিন আমদানি করেছে, যা এযাবৎকালের রেকর্ড। অর্থাৎ মাসিক ৪ লক্ষ ৭০ হাজার টন জ্বালানির প্রয়োজন মেটাতে হচ্ছে মস্কোকে। এর একটা বড় অংশ সরবরাহ করেছে ভারত। বিশেষ করে গুজরাতের ভাদিনার পরিশোধনাগার থেকে এই গ্যাসোলিন রফতানি করা হয়েছে, যার অর্ধেক মালিকানা রয়েছে রাশিয়ার রোসনেফ্ট সংস্থার নায়ারা এনার্জির হাতে। রাশিয়া থেকে সস্তায় কেনা অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করেই যে ভারত আবার সেই তেল বা গ্যাসোলিন মস্কোয় ফিরিয়ে দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

রাতের অন্ধকারে গোপন চালান

ইউক্রেনের ঘনঘন ড্রোন হামলার জেরে রাশিয়ার অন্দরে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে। বাধ্য হয়ে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির পাশাপাশি দেশজুড়ে জ্বালানি বিক্রিতে কড়াকড়ি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে বাধ্য হয়েছে পুতিন সরকার। এমনকি ভারত ছাড়াও তুরস্ক ও মরক্কো থেকেও গ্যাসোলিন আমদানি করছে তারা। ভর্টেক্সার রিপোর্ট অনুযায়ী, রাশিয়ার আমদানিকৃত গ্যাসোলিনের প্রায় ৪০ শতাংশই জাহাজ থেকে জাহাজে (Ship-to-ship) স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং তার বেশিরভাগই চালানো হয়েছে রাতের অন্ধকারে নিজেদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম বা AIS সিগন্যাল বন্ধ রেখে। একদিকে যখন রাশিয়া ডিজেল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তখন ভারতের এই জ্বালানি সহায়তা পুতিনের যুদ্ধকালীন অর্থনীতিকে যে বড় স্বস্তি দিল, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: বন্ধু দেশের এই কঠিন সময়ে ভারতের এই জ্বালানি কূটনীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মানচিত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *