মানসিক রোগে আক্রান্ত ছেলেকে ডাক্তারের নাম করে নিয়ে গিয়ে খুন! খোদ বাবার এমন নৃশংস কান্ডে থমকে গেল রাজধানী!

দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির কালিন্দী কুঞ্জ এলাকা থেকে এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। মানসিক রোগে আক্রান্ত নিজ সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখার বদলে নিজেই তাঁর জীবনের ঘাতক হয়ে উঠলেন এক বাবা! অসুস্থ ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে নির্মমভাবে খুন করার অভিযোগ উঠেছে খোদ পিতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত বাবা তালুকদার আনসারি (৬৪) এবং তাঁর সহযোগী মোহাম্মদ ওয়াসিম ওরফে আকরামকে (৪৯)-কে গ্রেফতার করেছে।
কীভাবে ফাঁস হল রহস্য? গত ২৩ আগস্ট কালিন্দী কুঞ্জ থানার পুলিশ কলোনির একটি পুরনো কন্টেনার থেকে গুল হাসান (৩৮) নামের এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে। নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন এবং পাশে রক্তমাখা কংক্রিটের পাথর পাওয়া যায়। প্রথমে মৃতদেহ শনাক্ত করা কঠিন হলেও, পুলিশ তদন্তে নেমে এলাকার ২০০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্ক্যান করে। সিসিটিভি ফুটেজেই দেখা যায়, মৃত যুবক তিনজন ব্যক্তির সঙ্গে ঘটনাস্থলে গেলেও পরে দু’জনকে ফিরে আসতে দেখা যায়।
খুনের নেপথ্য কারণ: পুলিশের জেরায় জানা যায়, নিহত গুল হাসান দীর্ঘ দিন ধরে সিজোফ্রেনিয়া (Schizophrenia) নামক একটি গুরুতর মানসিক রোগে ভুগছিলেন। এর জেরে তিনি প্রায়ই পরিবার ও প্রতিবেশীদের ওপর হাত তুলতেন এবং মারধর করতেন। ছেলের এই হিংসাত্মক আচরণে পুরো পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। এমনকি তাঁর সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও করতে পারছিলেন না বাবা।
এই চরম হতাশা থেকেই ছেলেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন বাবা তালুকদার আনসারি। পরিকল্পনা মতো, গত ২৩ আগস্ট ডাক্তার দেখানোর নাম করে ছেলেকে একটি সুদৃশ্য ও নিভৃত স্থানে নিয়ে যান বাবা ও তাঁর সহযোগী। সেখানে প্রথমে পাথরের আঘাতে এবং পরে কাপড়ের দড়ি দিয়ে গলা টিপে তাঁকে খুন করা হয়। এরপর লাশ একটি পুরনো কন্টেনারে ফেলে পালিয়ে যান তাঁরা। প্রতিবেশীদের চোখে ধুলো দিতে অভিযুক্ত বাবা দাবি করেছিলেন যে, ছেলেকে তিনি এক আত্মীয়ের বাড়ি রেখে এসেছেন। তবে পুলিশের নিখুঁত তদন্ত ও সিসিটিভি প্রযুক্তির কল্যাণে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ে যান নৃশংস এই দুই অভিযুক্ত।