বাংলায় আন্তর্জাতিক কিডনি পাচার চক্রের ভয়ানক রিং লিডার গ্রেফতার! উদ্ধার হওয়া রেট চার্ট দেখলে শিউরে উঠবেন

পশ্চিমবঙ্গে জাল বিস্তার করা একটি আন্তর্জাতিক কিডনি পাচার চক্রের সন্ধান মিলল। বাগুইআটির আটঘরা ফুলতলা এলাকা থেকে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) রাসেল আহমেদ নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। এই চক্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগসূত্র ও চাঞ্চল্যকর ‘রেট চার্ট’ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে।

কীভাবে ফাঁস হল এই চক্র? গত ১৮ আগস্ট এক ভুক্তভোগীর বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগর পুলিশ প্রথমে এই চক্রের মধ্যস্থতাকারী প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। প্রভাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই এই আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের মূল হোতা রাসেল আহমেদের নাম সামনে আসে। এরপরই এসটিএফ অভিযান চালিয়ে রাসেলকে পাকড়াও করে এবং তাকে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় সোপর্দ করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত রাসেল এর আগেও বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করে দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। সে সময় তার কাছ থেকে ভুয়া পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছিল। এবার বাগুইআটিতে ভাড়াবাড়িতে থেকে সে অত্যন্ত সুচারুভাবে কিডনি পাচার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল।

টার্গেট গরিব পরিবার ও চাঞ্চল্যকর ‘রেট চার্ট’: এই পাচার চক্রটি মূলত আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারগুলিকে টার্গেট করত। লোভনীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এবং মোটা টাকার লোভ দেখিয়ে সহজ-সরল মানুষকে কিডনি দানে রাজি করাতো তারা। এরপর সংগৃহীত সেই কিডনি বিভিন্ন ভিনরাজ্যে পাচার করা হতো।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, পুলিশ তল্লাশির সময় রাসেলের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট ‘রেট চার্ট’ বা দরতালিকা উদ্ধার করেছে। শুধু তাই নয়, দেশের বিভিন্ন রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতালের নথিপত্রও মিলেছে, যেখানে কোন হাসপাতালে ঠিক কটি কিডনির প্রয়োজন, তার বিশদ বিবরণ নথিভুক্ত ছিল। আজ ধৃতকে বিধাননগর আদালতে পেশ করে পুলিশ আরও গভীরে পৌঁছানোর জন্য রিমান্ডের আবেদন জানাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *