৮ম বেতন কমিশনে আসছে বড় চমক! ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের পাশাপাশি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাড়লে পকেটে আসবে মোটা টাকা!

৮ম বেতন কমিশনের সুপারিশ ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশা ও জল্পনা তুঙ্গে। বেতন কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কত হবে, তা যেমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই কর্মীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হারও দীর্ঘমেয়াদে তাঁদের বেতনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে চলেছে। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন কর্মী সংগঠন বর্তমান ৩ শতাংশের পরিবর্তে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫ থেকে ৭ শতাংশ করার জোরালো দাবি তুলেছে।
বৈঠক ও আলোচনা পর্ব: ৮ম বেতন কমিশন বর্তমানে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কর্মী সংগঠন, বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং পেনশনভোগীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে। দিল্লি, লাদাখ, উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের পর এবার সোমবার জয়পুরে কমিশনের দু’দিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই আলোচনাগুলিতে কর্মীদের বেতন, ভাতা ও পেনশন সংশোধনের পাশাপাশি ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার বৃদ্ধির দাবিও জোরালোভাবে উঠেছে।
কেন এই পরিবর্তন জরুরি? বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চতর ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর হলে কর্মীদের বেসিক পে এক ধাক্কায় অনেকটাই বৃদ্ধি পায়, যার সুবিধা পাওয়া যায় তাৎক্ষণিকভাবে। অন্যদিকে, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার বেশি হলে তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। কারণ প্রতি বছর আগের বছরের বর্ধিত বেসিক পের ওপর ভিত্তি করেই নতুন ইনক্রিমেন্ট হিসাব করা হয়, যা দীর্ঘ চাকরিজীবনে চক্রবৃদ্ধির মতো আর্থিক লাভ এনে দেয়।
উদাহরণস্বরূপ, লেভেল-১০ এর কোনো কর্মীর ক্ষেত্রে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বাড়লে যেমন বড় অংকের বেসিক বৃদ্ধি হয়, তেমনই ইনক্রিমেন্ট ৭ শতাংশ হলে খুব দ্রুত বেতন বাড়তে থাকে। ইতিপূর্বে ৬ষ্ঠ বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ১.৮৬ এবং ৭ম বেতন কমিশনে তা বাড়িয়ে ২.৫৭ করা হয়েছিল। তবে ৮ম বেতন কমিশনে এটি কত হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
সব মিলিয়ে, কর্মীদের জন্য সবচেয়ে লাভজনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যদি উচ্চ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের পাশাপাশি বার্ষিক ইনক্রিমেন্টও বৃদ্ধি পায়। বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন ৮ম বেতন কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশের পরই এই বিষয়ে স্পষ্ট চিত্র সামনে আসবে। ২০২৭ সালের মে-জুন নাগাদ এই রিপোর্ট জমা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।