দেশবিরোধী দেওয়াল লিখন সাফ! শুভেন্দুর হুঙ্কারেই কি যাদবপুরে বড় অ্যাকশন?

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিটি মুছে ফেলার কাজ শুরু হতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পেকেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারির পরেই এই বিষয়ে সক্রিয় পদক্ষেপ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শনিবার রাত থেকেই যাদবপুর ক্যাম্পাসের বিতর্কিত দেওয়াল লিখন এবং গ্রাফিটি মোছার কাজ শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে।

ইতিমধ্যেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের হস্টেল চত্বর এবং সংশ্লিষ্ট দেওয়ালগুলিতে সাদা রঙের প্রলেপ দিয়ে আগের সমস্ত লেখা মুছে ফেলা হয়েছে। প্রশাসনের এই আকস্মিক পদক্ষেপে এখনও পর্যন্ত বাম ছাত্র সংগঠনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

কয়েকদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে যাদবপুরের দেওয়াল লিখন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লিখেছিলেন, কলা বিভাগের হস্টেল চত্বরে আপত্তিকর, হিংসাত্মক এবং দেশবিরোধী দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিটি রয়েছে, যা কিছু সচেতন ছাত্রের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে এসে পৌঁছেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জ্ঞানচর্চা ও দেশ গঠনের পবিত্র জায়গা উল্লেখ করে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, দেশের বিরুদ্ধে মনোভাব ছড়ানোর মঞ্চ হিসেবে ক্যাম্পাসকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

এর পরেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উচ্চশিক্ষা দপ্তরের প্রধান সচিব এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, হস্টেল এলাকা পরিদর্শন করে ওই ধরনের দেওয়াল লিখন রয়েছে কি না তা যাচাই করতে হবে এবং সত্যতা মিললে অবিলম্বে সেগুলি মুছে ফেলার পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে দেশবিরোধী কার্যকলাপের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলে, সে কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই পথেই হেঁটে যাদবপুর চত্বর থেকে বিতর্কিত দেওয়ালগুলি মুছে ফেলার কাজ শুরু হওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *