বুক পর্যন্ত থকথকে কাদা!, নেপালে সুড়ঙ্গে আটকে বহু মানুষ, উদ্ধারকাজে পর্বতারোহীরা

হড়পা বানের কোপে সর্বস্ব হারিয়ে সুড়ঙ্গে আশ্রয় নিয়েছিলেন বহু মানুষ। কিন্তু সেই সুড়ঙ্গই এখন তাঁদের কাছে জীবন্ত মৃত্যুফাঁদ। বুক পর্যন্ত থকথকে কাদা আর বড় বড় পাথরে সুড়ঙ্গের মুখ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে নেপালের বিভিন্ন প্রান্তে সুড়ঙ্গের ভিতরেই আটকে রয়েছেন বহু মানুষ। সাধারণ সেনার পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত বিশেষ উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে দেশের নামী পর্বতারোহীদের।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট রাসুয়ার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে। সেখানে আটকে থাকা ৬ জনকে উদ্ধারে শনিবারই ঘটনাস্থলে নামে পেশাদার পর্বতারোহীদের একটি দল। দড়ির সাহায্যে সুড়ঙ্গের প্রায় ১২০ মিটার গভীরে প্রবেশ করেন তাঁরা। কিন্তু বুক পর্যন্ত জমে থাকা কাদা এবং আবর্জনার কারণে উদ্ধারকারীদের চরম বেগ পেতে হয়।
অভিজ্ঞ পর্বতারোহী আশিস গুরুং, দোর্জি শেরপা এবং জ়েনজ়েন লামারা জানিয়েছেন, তাঁরা ১২০ মিটার পর্যন্ত সুড়ঙ্গের ভিতরে পৌঁছাতে পেরেছিলেন এবং একটি ক্যামেরার ব্যাগ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। তবে এর চেয়ে গভীরে যাওয়া তাঁদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, সুড়ঙ্গ থেকে আটকে থাকা মানুষগুলোকে জীবিত উদ্ধার করতে হলে আগে শক্তিশালী পাম্পের সাহায্যে সমস্ত কাদা ও জল বাইরে বের করতে হবে।
এই উদ্ধারকাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্বের চরম আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করা অভিজ্ঞরা। এই দলে রয়েছেন ৬ বার এভারেস্টজয়ী জ়েনজ়েন লামা, ১২ বার এভারেস্টজয়ী আমা দাবলামের মতো তারকারা। এছাড়াও দলে রয়েছেন দাওয়া জাংবু শেরপা, গাইড দাওয়া সিঙ্গি হ্যোেলমো, মন রাজ গুরুং, পেম্বা ওয়াংচু শেরপা, বিক্রম কার্কি, সাবিন ঠাকুরি, গেশমান তামাং, সন্দেশ শেরপা এবং ছিরিং শেরপার মতো দক্ষ পর্বতারোহীরা।
ত্রিশূলির জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গেও একই ছবি ধরা পড়েছিল। যদিও সেখানে আটকে থাকা অনেককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবুও এখনও বহু মানুষ অন্ধকার সুড়ঙ্গের অন্দরে জীবনের সঙ্গে লড়ছেন। উল্লেখ্য, এই সমস্ত বিদ্যুৎ প্রকল্পে নেপালি নাগরিকদের পাশাপাশি বহু ভারতীয়, চিনা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকও কর্মরত ছিলেন। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের পর তাঁদের জীবিত উদ্ধার করা এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।