‘ভারতের মুসলমানদের তাড়ানো হিন্দুত্ব নয়,’-সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের ডাক দিলেন মোহন ভগবত

নিউ ইয়র্কে আয়োজিত ‘এক বিশ্ব, এক মানবতা’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে ঐক্যের বার্তা দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর মতে, পৃথিবীতে বহু ধর্ম রয়েছে। তাদের আচার এবং নিয়মকানুনও সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু সব পথের চূড়ান্ত লক্ষ্য একটাই, আর তা হলো সত্যের সন্ধান ও মানবতার কল্যাণ। ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সেই মূল সত্যের দিকেই আলোকপাত করার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

একই সত্য, দেখার পদ্ধতি আলাদা মানুষ তার নিজের অভিজ্ঞতা এবং সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই পৃথিবীকে বিচার করে। বিষয়টি আরও সহজভাবে বোঝাতে গিয়ে মোহন ভাগবত তাঁর পশুচিকিৎসক হওয়ার জীবনের একটি বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মানুষ সাধারণত একাধিক রং দেখতে পায়। কিন্তু একটি কুকুর মানুষের মতো এত রং দেখতে পায় না। মানুষ তাকে পৃথিবীর নানা রং বোঝাতে চাইলেও কুকুর নিজের ক্ষমতার বাইরে গিয়ে সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে না। এর অর্থ এই নয় যে কুকুরটি যা দেখছে তা মিথ্যা। তার কাছে নিজের অভিজ্ঞতাই চূড়ান্ত বাস্তব। ঠিক একইভাবে মানুষও নিজের ইন্দ্রিয় এবং অভিজ্ঞতার সীমার মধ্যে থেকেই এই পৃথিবীকে উপলব্ধি করে।

আঙুল নয়, আলোর দিকে তাকান ধর্মের আচার এবং উপাসনার পদ্ধতি নিয়েও একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ দেন আরএসএস প্রধান। তিনি বলেন, কেউ যদি আঙুল দিয়ে দূরের কোনও আলো দেখিয়ে বলেন ওখানে আলো রয়েছে, তখন মানুষের চোখ প্রথমেই তাঁর আঙুলের দিকে চলে যায়। কিন্তু আঙুলের দিকেই যদি কেউ সারাক্ষণ তাকিয়ে থাকেন, তবে যে আলোটি দেখানোর জন্য আঙুল তোলা হয়েছিল তা আর দেখা হবে না।

ভগবতের মতে, ধর্মের আচার বা নিয়মকানুনগুলিও অনেকটা ওই আঙুলের মতো। এগুলি মানুষকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ দেখায়। কিন্তু মানুষ যদি শুধু আচার নিয়েই মগ্ন থাকে এবং মূল উদ্দেশ্য ভুলে যায়, তবে আসল সত্যের সন্ধান চিরকাল অধরাই থেকে যাবে।

শেষ সত্যের সন্ধানই আসল লক্ষ্য মানুষের আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত চূড়ান্ত সত্যকে খুঁজে বের করা। বিভিন্ন ধর্মে যাকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়, সেই পরম সত্তা বা পরম সত্যের কথাই নিউ ইয়র্কের মঞ্চ থেকে তুলে ধরেন মোহন ভাগবত। আধুনিক বিজ্ঞানও এখন এই বিষয়টিকে অন্যভাবে বিশ্লেষণ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আধুনিক বিজ্ঞানের ‘কনশাসনেস’ বা চেতনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বুঝিয়ে দেন, ধর্মের ভাষা আলাদা হলেও মানুষের অস্তিত্ব এবং সত্যের সন্ধানের বিষয়টি আদ্যোপান্ত সর্বজনীন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *