পচন রুখতে বড় সিদ্ধান্ত! নেপালের ভয়াবহ বন্যায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

নেপালে এই সপ্তাহে আঘাত হানা ভয়াবহ ও বিধ্বংসী বন্যায় মৃতু্যপুরীতে পরিণত হয়েছে একাধিক এলাকা। সুনামির মতো ধেয়ে আসা জল ও কাদার স্রোতে প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। এখনও পর্যন্ত অন্তত ৭৩৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ভারতের সীমান্তবর্তী দক্ষিণের জেলা চিতওয়ানেই মিলেছে ২৩৩টি মৃতদেহ। তবে মর্মান্তিক ব্যাপার হলো, হাসপাতালের মর্গে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এবং পচন ধরে মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বহু অজ্ঞাতপরিচয় ও দাবিহীন মৃতদেহ এবার মাটিচাপা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল কর্তৃপক্ষ।

ডিএনএ সংরক্ষণ ও বিশেষ বন্দোবস্ত ভবিষ্যতে স্বজনরা যাতে প্রিয়জনকে সহজেই খুঁজে পেতে পারেন, তার জন্য সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। মাটিচাপা দেওয়ার আগে প্রতিটি মৃতদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি:

  • প্রতিটি মরদেহের জন্য আলাদা শনাক্তকরণ নম্বর (ID) এবং অবস্থানসূচক ট্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে।

  • মাত্র ১.৫ মিটার গভীর গর্ত খুঁড়ে এবং নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে মৃতদেহগুলো সমাহিত করা হচ্ছে।

  • পুরো প্রক্রিয়ার জিও-ট্যাগিং এবং ভিডিও নথিপত্র তৈরি করা হচ্ছে, যাতে ডিএনএ মিলে যাওয়ার পর স্বজনদের কাছে দেহগুলো সঠিকভাবে ফিরিয়ে দেওয়া যায়।

নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৩০০০ মানুষ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত বিদেশি নাগরিক-সহ প্রায় ৩০০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে থাকা ব্যক্তিদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে ডিএনএ নমুনা জমা দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। পুলিশ একটি সরকারি ওয়েবসাইটেও অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহগুলোর বিস্তারিত তথ্য আপলোড করেছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর স্বজনহারা মানুষগুলোর বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে নেপালের বাতাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *