‘ক্যাশলেস’ মানেই কি এক টাকাও খরচ নেই? পলিসি কেনার আগে এই ৫টি কথা না জানলে পস্তাতে হবে!

বর্তমান যুগে চিকিৎসার খরচ যেভাবে হু হু করে বাড়ছে, তাতে সামান্য সর্দি-কাশি থেকে বড় কোনো সার্জারি—হাসপাতালের বিল মেটাতে গিয়ে পরিবারের বছরের পর বছর জমানো সঞ্চয় এক নিমেষে শেষ হয়ে যেতে পারে। এই আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই মানুষ এখন স্বাস্থ্য বিমা বা হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ওপর ভরসা রাখছেন। অনলাইনে এখন ঘরে বসেই খুব সহজে পছন্দমতো পলিসি কিনে নেওয়া যায়। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই এখানেই একটি মস্ত বড় ভুল করে বসেন—তাঁরা পলিসির পুরো নিয়ম ও ছোট ছোট শর্তগুলো ভালোভাবে পড়েন না। আর যখন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আসল সময় আসে, তখন পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। তাই পলিসি কেনার আগে অবশ্যই এই ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা দরকার:
১. ক্যাশলেস মানেই সব ফ্রি নয়:
অনেকেরই ধারণা, ‘ক্যাশলেস’ (Cashless) সুবিধা থাকার অর্থ হাসপাতালে পকেট থেকে এক কানাকড়িও খরচ করতে হবে না। কিন্তু এটি ভুল ধারণা। ক্যাশলেসের অর্থ হলো বিমা কোম্পানি ও হাসপাতালের মধ্যে খরচের হিসাব মেটানো হবে, তবে এর মানে এই নয় যে সব খরচ কোম্পানি বহন করবে। গ্লাভস, সিরিঞ্জ, মাস্ক বা পিপিই কিটের (PPE Kit) মতো বেশ কিছু ছোটখাটো খরচ পলিসির আওতায় নাও থাকতে পারে। এছাড়া চিকিৎসার কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ হলে তার কিছু অংশ আপনাকেই মেটাতে হতে পারে।
২. রুম রেন্ট বা ঘরের ভাড়ার লিমিট:
পলিসি নেওয়ার সময় ঘরের ভাড়ার সীমা (Room Rent Limit) কত রয়েছে তা অবশ্যই দেখে নেওয়া উচিত। আপনি যদি নির্ধারিত সীমার চেয়ে দামি কামরা বেছে নেন, তবে শুধু ঘরের ভাড়া নয়, বরং অন্যান্য চিকিৎসার খরচেও তার বড় প্রভাব পড়তে পারে, যাকে ‘প্রোপোরশনেট ডিডাকশন’ (Proportionate Deduction) বলা হয়। তাই কেবল ৫ বা ১০ লাখ টাকার কভার দেখলেই চলবে না, কোন খাতে কত লিমিট আছে তাও দেখতে হবে।
৩. এজেন্টের কথায় অন্ধ বিশ্বাস নয়:
পলিসি বিক্রির সময় এজেন্টরা অনেক কিছুই বলে থাকেন। কিন্তু বিপদের দিনে বা ক্লেমের সময় এজেন্টের মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং পলিসির পেপারে ঠিক কী লেখা আছে সেটাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়। তাই যেকোনো শর্ত নিয়ে সন্দেহ থাকলে তা লিখিতভাবে স্পষ্ট করে নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
৪. পুরনো রোগ বা প্রি-এজিস্ট্রং ডিজিজ লুকাবেন না:
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা থাইরয়েডের মতো কোনো পুরনো রোগ থাকলে তা পলিসি নেওয়ার সময় কখনোই লুকাবেন না। প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই এই তথ্য গোপন করেন। কিন্তু ক্লেমের সময় হাসপাতালের রেকর্ড থেকে সত্য সামনে চলে আসলে পুরো ক্লেম বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই শুরু থেকেই সঠিক তথ্য দেওয়া নিরাপদ।
৫. কেবল কম প্রিমিয়াম দেখে পলিসি কিনবেন না:
সবচেয়ে সস্তা পলিসি বেছে নেওয়া অনেক সময় বুমেরাং হতে পারে। সস্তা পলিসিতে কো-পেমেন্ট (Co-payment), সাব-লিমিট বা ওয়েটিং पीरियडের মতো কঠিন শর্ত থাকতে পারে, যার ফলে বিপদের দিনে বড় অঙ্কের টাকা নিজের পকেট থেকেই দিতে হতে পারে। তাই সস্তার চেয়ে কভারেজ ও শর্তগুলো ভালোভাবে খতিয়ে দেখেই তবেই সঠিক হেলথ ইন্স্যুরেন্স বেছে নিন।