ট্রাম্পের প্রস্তাব আটকে দিল চিন-রাশিয়া! সুদান সংকট ঘিরে বিশ্বরাজনীতিতে চরম উত্তেজনা।

কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে ২০২৬ সালের আগস্টের শেষদিকে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা করেছে মিশর ও যুক্তরাষ্ট্র। মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে. রিগাসের এই বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত হয়েছে। আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলা এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন মিশরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখতে চাইছে। সংকট নিরসনে কূটনৈতিক সংলাপের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন আবদেলাত্তি।
উত্তর আফ্রিকায় পরাশক্তির লড়াই মার্কিন-মিশর সম্পর্কের পাশাপাশি উত্তর আফ্রিকা বর্তমানে বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রভাবের বিপরীতে চীন ও রাশিয়াও এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক গভীর করছে। তবে উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো কোনো একটি পরাশক্তির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না হয়ে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রাখছে। যার উজ্জ্বল নিদর্শন মিশর। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার পাশাপাশি চিনের সঙ্গেও সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে চলেছে কায়রো। বর্তমানে মিশরে দুই দেশের বিমানবাহিনীর ‘ইগলস অব সিভিলাইজেশন’ যৌথ মহড়ার দ্বিতীয় পর্ব চলছে।
অন্যদিকে, মরক্কো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগী হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। মরক্কোর বাদশাহ মোহাম্মদ ষষ্ঠ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুসম্পর্ক দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পশ্চিম সাহারার স্বীকৃতিস্বরূপ মরক্কো তাদের ১,০৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তিজনিত-দাখলা এক্সপ্রেসওয়ের নাম পরিবর্তন করে রেখেছে ‘ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প হাইওয়ে’। পাশাপাশি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান আধুনিকায়ন ও অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংগ্রহের পাশাপাশি দুই দেশ যৌথভাবে ‘আফ্রিকান লায়ন’ মহড়ার আয়োজন করে আসছে।
রাশিয়া ও আলজেরিয়ার সম্পর্ক মরক্কো ও মিশরের উল্টো পথ ধরে আলজেরিয়া ঐতিহ্যগতভাবে রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রেখেছে। সু-৩৪এম যুদ্ধবিমানের মতো উন্নত রুশ সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে দেশটি। পাশাপাশি লিবিয়ার বিভিন্ন বিমানঘাঁটিতে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন সংস্থার স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লিবিয়ার ছয়টি বিমানঘাঁটিতে হ্যাঙ্গার ও রানওয়ে নির্মাণের কাজ চলছে, যা উত্তর আফ্রিকায় মস্কোর দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
সুদান সংকট ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সংঘাত উত্তর আফ্রিকার এই ভূরাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেই সুদান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সুদানের পুরো ভূখণ্ডে জাতিসংঘের দুই দশক পুরোনো অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের জন্য প্রবল চাপ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। বর্তমানে এই নিষেধাজ্ঞা শুধু দারফুর অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও তা সারা দেশে কার্যকর করতে চাইছে আমেরিকা। তবে রাশিয়া, চীন এবং সুদানের সরকার এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে। সুদানের গৃহযুদ্ধে বিদেশি অস্ত্র ও ড্রোনের সরবরাহ বন্ধ করতেই মার্কিন এই উদ্যোগ। তবে পরাশক্তিগুলোর এই কূটনৈতিক সংঘাতে ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করা বিশ্বের অন্যতম এই ভয়াবহ মানবিক সংকটের সমাধান আরও জটিল হয়ে উঠছে।