বাজারে হু হু করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম! অথচ সরকারি গুদামেই পচে নষ্ট হয়ে গেল ৪৮ হাজার টন পেঁয়াজ?

বাজারে ফের চড়ছে পেঁয়াজের পারদ। সাধারণ মানুষের রান্নার খরচ বাড়াতে হু হু করে যখন পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী, ঠিক তখনই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। কৃষকদের স্বার্থরক্ষা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারি গুদামগুলিতে যে বিশাল পরিমাণ পেঁয়াজ মজুত করা হয়েছিল, তার প্রায় ৪০ শতাংশই আজ পচে নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ।
সরকারি গুদামে অব্যবস্থার ছবি:
নাফেড (NAFED) এবং এনসিসিএফ (NCCF)—এই দুই সরকারি সংস্থার মাধ্যমে গত সাড়ে তিন মাস ধরে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ সংগ্রহ করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, বাজারে দাম অতিরিক্ত বেড়ে গেলে এই মজুত পেঁয়াজ ছেড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। কিন্তু কৃষক সংগঠনগুলির অভিযোগ, অপরিকল্পিত সংরক্ষণ, বাতাস চলাচল ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের অভাবে নাসিকের লাসলগাঁওয়ের গুদামগুলিতে প্রায় ৪৮ হাজার টন পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অনেক জায়গায় পচন ধরে দুর্গন্ধও ছড়াতে শুরু করেছে।
চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ:
যখন মাঠে পেঁয়াজের দাম কম ছিল, তখন জলের দরে কৃষকদের কাছ থেকে সেই ফসল কিনেছিল সরকারি সংস্থাগুলি। এখন দাম বাড়ার পর সেই মজুত পেঁয়াজ দেশের বিভিন্ন বড় শহরে পাঠানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নাসিকের মনমাড থেকে বিশেষ ট্রেনে করে প্রায় ৮০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ দক্ষিণ ভারতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, গুদামে পচে যাওয়া নিম্নমানের এই পেঁয়াজ বাজারে ছাড়লে একদিকে যেমন সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হবেন, তেমনই নতুন ফসল বাজারে আসার আগে এই সরকারি স্টক নেমে এলে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়বেন স্থানীয় চাষিরাও। সবমিলিয়ে, সরকারি অব্যবস্থাপনার জেরে এই বিপুল পরিমাণ নষ্ট হওয়া পেঁয়াজের দায় কার, তা নিয়েই এখন শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।