আরজিকর-কাণ্ডের দগদগে ক্ষত ফের তাজা পর্দায়! হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘অজেয়া’ কি মেটাতে পারল অন্যায়ের জ্বালা?

দু’বছর আগের সেই অগস্ট মাসের একটি রাত আজও কলকাতার ঘুম কেড়ে নিয়েছে। আরজিকর হাসপাতালের সেই জুনিয়র চিকিৎসকের ক্ষতবিক্ষত ও রক্তে ভাসমান দেহ এবং ‘অভয়া’র নির্মম পরিণতির বিচার চেয়ে গড়ে ওঠা প্রতিবাদের ঢেউ আজও মানুষের মনে দগদগে। আর ঠিক এই বাস্তব ঘটনার ভয়াবহ ছায়াকে সামনে রেখেই হইচই প্ল্যাটফর্মে এল নতুন ওয়েব সিরিজ ‘অজেয়া: স্পেশাল টাস্ক ফোর্স’। পরিচালক অয়ন চক্রবর্তী এবং সহ-কাহিনিকার শর্বরী ঘোষালের এই কাজ মুক্তির পর থেকেই নেটদুনিয়ায় শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

কী রয়েছে সিরিজের গল্পে?

সিরিজের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সি এম দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক তরুণী জুনিয়র ডাক্তার দেবপর্ণা বিশ্বাস (শিরিন পাল)-এর নৃশংস পরিণতি। ২৭ অগস্ট ভোরে হাসপাতালের মিটিং রুম থেকে তার অর্ধনগ্ন ও ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার তদন্তে নামে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ), যার নেতৃত্বে রয়েছেন এসিপি দামিনী সেনগুপ্ত অর্থাৎ অভিনেত্রী সোহিনী সরকার। সঙ্গে রয়েছে একদল তরুণ তুর্কি অফিসার ও এক এথিক্যাল হ্যাকার। প্রথম থেকেই তদন্তে একের পর এক অসঙ্গতি, প্রভাবশালী মহলের চাপ এবং কলেজের অধ্যাপক ও প্রিন্সিপালদের অসহযোগিতা উঠে আসতে থাকে। সিভিক ভলান্টিয়ার বিজন দত্তকে (শৌনক কুণ্ডু) পুলিশ গ্রেফতার করলেও, দামিনীর জেদ ক্রমশ উন্মোচন করতে শুরু করে গভীরে শিকড় ছড়ানো এক অশুভ দুর্নীতি ও চক্রান্তের জাল।

অভিনয় ও আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়া:

বাস্তবের অসহায়তা ও সুবিচার না পাওয়ার যন্ত্রণাকে যেন পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন কলাকুশলীরা। বাস্তবে আন্দোলনের চেনা মুখ সোহিনী সরকারকে এসিপি দামিনীর চরিত্রে অত্যন্ত শক্তিশালী ও জীবন্ত লাগে। পাশাপাশি ইন্দ্রাশিস রায়, রুকমা রায়, মৈনাক ব্যানার্জিদের পাশাপাশি বিজনের চরিত্রে শৌনক কুণ্ডুর অভিনয় দর্শকদের মনে গভীর দাগ কাটে।

বাস্তবে ‘অভয়া’র আসল সত্যি ও সুবিচার এখনও অধরা। তাই পর্দার ‘অজেয়া’র তদন্তে অন্ধকারের আড়াল ভেদ করে সত্যি সামনে আসার দৃশ্যগুলো দর্শকদের মনে অদ্ভুত এক তৃপ্তি দেয়। অপরাধের বিশদ বর্ণনায় গায়ে কাঁটা দিলেও, মানসিক ভাবে নাড়িয়ে দেওয়া এই আট পর্বের সিরিজটি বর্তমান সময়ের অন্যতম চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *