টিসিএস ছেড়ে মাইক্রোসফটে চাকরি! এক ধাক্কায় কর্পোরেট দুনিয়ার যে বড় সত্যিটা ফাঁস করলেন টেকপ্রোফেশনাল

কর্পোরেট চাকরি মানেই কি সকাল হলেই টাইম মেনে অফিসে ছোটা, ডেস্কে বসে কাজ করা আর নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি ফেরা? নাকি এর বাইরেও কাজের এমন এক দুনিয়া রয়েছে যেখানে বস ও কর্মীর ফারাক ঘুচে গিয়ে সৃষ্টি হয় নতুন স্বাধীনতার? সম্প্রতি টিসিএস (TCS) ছেড়ে মাইক্রোসফটে (Microsoft) যোগ দেওয়া এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সাইলেশ গুরুং সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে কর্পোরেট লাইফের এমন কিছু অজানা দিক সামনে এনেছেন, যা নিয়ে এখন নেটদুনিয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে।

টিসিএস বনাম মাইক্রোসফটের কর্মসংস্কৃতি:

সাইলেশ জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে যখন তিনি ফ্রেশার হিসেবে টিসিএস-এ চাকরি শুরু করেছিলেন, তখন তাঁর কাছে কর্পোরেট লাইফের অর্থ ছিল খুব সরল—টাইমে অফিস যাওয়া, নিয়মমাফিক কাজ শেষ করা এবং দিন শেষে লগআউট করে বেরিয়ে আসা। সেখানে প্রসেস এবং শৃঙ্খলার ওপর বেশি জোর দেওয়া হতো। কিন্তু যখন তিনি মাইক্রোসফটে পা রাখলেন, তখন তাঁর চোখের সামনে কর্পোরেট কালচারের এক সম্পূর্ণ নতুন চিত্র ভেসে ওঠে।

কাজে স্বাধীনতা ও পরিবেশের ফারাক:

সাইলেশের মতে, দুই কোম্পানির কাজের ধরনে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। সার্ভিস বেসড কোম্পানিতে সিনিয়র-জুনিয়র বা অনুমোদনের যে লম্বা স্তর দেখা যায়, মাইক্রোসফটে তার বালাই নেই বললেই চলে। সেখানে হায়ারার্কি বা পদের দেয়াল অনেকটাই ছোট, ফলে যেকোনো সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে কাজ করা অনেক সহজ। শুধু তাই নয়, ড্রেস কোডের ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় ছাড়। টিসিএস-এ যেখানে প্রতিদিন ফর্মাল পোশাক পরা বাধ্যতামূলক ছিল, মাইক্রোসফটে সেখানে নির্দিষ্ট কোনো কঠোর নিয়ম নেই; স্বচ্ছন্দ ও ডিসেন্ট পোশাকেই কাজ করা যায়।

সুযোগ-সুবিধা এবং এন্ড-টু-এন্ড ওনারশিপ:

মাইক্রোসফটের ক্যাম্পাস লাইফ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, সেখানে শুধু কাজই নয়, বরং কর্মীদের মানসিক শান্তি ও আরামের কথা মাথায় রেখে বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। গেমিং জোন, রিল্যাক্স করার জায়গা, চমৎকার ফুড জোন থেকে শুরু করে ম্যাসাজ চেয়ার—সব মিলিয়ে কাজের পরিবেশটি বেশ প্রাণবন্ত। শুধু সুযোগ-সুবিধাই নয়, কাজের মডেলেও রয়েছে বড় পরিবর্তন। এখানে কর্মচারীরা কেবল একটি নির্দিষ্ট শিফটের কাজ করেন না, বরং একটি প্রজেক্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ দায়িত্ব (End-to-end ownership) নিজেদের হাতে নেন।

সাইলেশের এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, টিসিএস তাঁকে যেমন কর্পোরেট নিয়মানুবর্তিতা ও প্রসেস শিখিয়েছে, তেমনই মাইক্রোসফট তাঁকে দিয়েছে কাজের স্বাধীনতা, সঠিক ওনারশিপ এবং গ্রোথের দারুণ সুযোগ।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *