অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকা জমিয়েই মিলবে দুর্দান্ত রিটার্ন! ৫ বছরে হাতে আসবে কত লক্ষ?

পশ্চিমবঙ্গের বহু নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মহিলাদের কাছে অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে আসা প্রতি মাসের ৩,০০০ টাকা সংসারের খরচ সামলানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের বড় ভরসা হয়ে উঠতে পারে। এই টাকার পুরোটা একসঙ্গে খরচ না করে যদি নিয়ম করে সঞ্চয় করা যায়, তবে কয়েক বছর পরে তা মোটা অঙ্কের তহবিলে পরিণত হতে পারে। ছেলেমেয়ের কলেজে ভর্তি, ব্যবসা কিংবা বাড়ি কেনার মতো প্রয়োজনে এই জমানো টাকা বড় সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে যারা শেয়ার বাজার বা ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় বিনিয়োগ করতে চান না, তাদের জন্য রেকারিং ডিপোজিট বা আরডি (RD) একটি নিরাপদ ও সহজ উপায়।
ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমিয়ে এই অ্যাকাউন্ট চালানো যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো মহিলা যদি অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকার একটি অংশ প্রতি মাসে আরডি-তে জমান, তবে পাঁচ বছরে তার হিসাব কেমন হতে পারে? একটানা পাঁচ বছর বা ৬০ মাস ধরে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে জমালে নিজের পকেট থেকে মোট ১,৮০,০০০ টাকা জমা হবে। এর সঙ্গে নির্দিষ্ট সুদের হার যুক্ত হয়ে পাঁচ বছর পর মোট প্রায় ২.১২ লক্ষ থেকে ২.১৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হাতে আসতে পারে। অর্থাৎ, শুধু সুদ বাবদই প্রায় ৩২ হাজার থেকে ৩৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত পাওয়া সম্ভব।
বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৫ বছরের আরডি-র আনুমানিক সুদের হারের ভিত্তিতে হিসাব করলে দেখা যায়:
-
পোস্ট অফিস (৬.৭% সুদ): ম্যাচুরিটি অ্যামাউন্ট প্রায় ২,১৪,১০০ টাকা।
-
ICICI Bank (৬.৫০% সুদ): ম্যাচুরিটি অ্যামাউন্ট প্রায় ২,১২,৯৭০ টাকা।
-
Axis Bank (৬.৪৫% সুদ): ম্যাচুরিটি অ্যামাউন্ট প্রায় ২,১২,৬৯০ টাকা।
-
HDFC Bank (৬.৪০% সুদ): ম্যাচুরিটি অ্যামাউন্ট প্রায় ২,১২,৪১০ টাকা।
-
PNB (৬.৩৫% সুদ): ম্যাচুরিটি অ্যামাউন্ট প্রায় ২,১২,১৩০ টাকা।
-
SBI (৬.৩০% সুদ): ম্যাচুরিটি অ্যামাউন্ট প্রায় ২,১১,৮৬০ টাকা।
(উল্লেখ্য, সুদের হিসাব গণনার পদ্ধতি ও নিয়মের ওপর নির্ভর করে প্রকৃত পরিমাণ কিছুটা কমবেশি হতে পারে।)
এই পুরো প্রক্রিয়ার আসল লাভ হলো নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা। প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা হয়তো খুব বড় অঙ্ক মনে হয় না, কিন্তু ৬০ মাস ধরে তা জমলে তা দুই লক্ষ টাকার গণ্ডি পেরিয়ে যায়। নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্ষেত্রে এই সঞ্চয় ভবিষ্যতে জরুরি চিকিৎসার খরচ, পড়াশোনা কিংবা সংসারের নানা সঙ্কটে বড় আর্থিক সুরক্ষা দিতে পারে। তাই সামান্য হাতখরচে উড়িয়ে না দিয়ে এই টাকা নিয়মানুবর্তিতার সঙ্গে জমিয়ে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।