‘সব জেনেশুনেও মুখে কুলুপ এঁটেছিল বেজিং!’ নেপালের ভয়াবহ হড়পা বান নিয়ে চিনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ প্রাক্তন মন্ত্রীর

বিধ্বংসী হড়পা বান ও হিমবাহ ধসের জেরে পাহাড়ঘেরা নেপালে যখন লাশের স্তূপ আর নিখোঁজদের খোঁজে হাহাকার চলছে, ঠিক তখনই প্রতিবেশী চিনের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুললেন নেপালের প্রাক্তন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী মাধব প্রসাদ চৌলাঁগাই। তাঁর সরাসরি দাবি, এই প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগ আছড়ে পড়ার আগে বেজিংয়ের পক্ষ থেকে নেপালকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা বা তথ্য দেওয়া হয়নি। সময়মতো তথ্য না দেওয়ার ফলেই এত বড় মানবিক বিপর্যয় এবং শত শত প্রাণহানি ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

চিনের বিরুদ্ধে গুরুতর তথ্য গোপনের অভিযোগ:

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাধব প্রসাদ জানান, গত বুধবার সকালে যখন বরফ, পাথর আর কাদামাটির এক বিশাল প্রাচীর নেপাল-তিব্বত সীমান্ত গুঁড়িয়ে নেমে আসে, তার আগে চিনের তরফ থেকে কোনো রকম অ্যালার্ট দেওয়া হয়নি। দুই দেশের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের রূপরেখা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে তা না হওয়াকে তিনি তীব্র কটাক্ষ করেন। দুর্যোগটি নেপালের ভূখণ্ডে শুরু হয়েছে বলে বেজিং যে সাফাই দিচ্ছে, তা সরাসরি খারিজ করে তিনি স্পষ্ট জানান, এই বিপর্যয়ের মূল উৎস ছিল তিব্বতে। এমন জরুরি তথ্য আটকে রাখাকে তিনি স্পষ্টতই ‘মানবতাবিরোধী’ বলে তোপ দেগেছেন।

উদ্ধারকাজ জারি ও ৬২৬ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা:

এদিকে টানা চার দিন ধরে নেপালে চলছে জোরকদমে উদ্ধারকাজ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এই বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আড়াই হাজারের কাছাকাছি মানুষ। দুর্গম পাহাড় ও ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে নেপাল সেনাবাহিনীর পাঁচ হাজারেরও বেশি জওয়ানসহ মোট ১১ হাজার নিরাপত্তা কর্মী দিনরাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই বুকভাঙা যন্ত্রণার মাঝে আন্তর্জাতিক স্তরে তথ্য বিনিময়ের অভাব এবং প্রতিবেশীর অসহযোগিতা এখন গোটা অঞ্চলে নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *