অনলাইন গেমের সর্বনাশা নেশা! ঋণের টাকা মেটাতে নিজেরই দাদুকে বন্ধুকে নিয়ে গলা কেটে খুন করল নাতি

অনলাইন গেমের সর্বনাশা আসক্তি আর ঋণের বেড়াজাল মানুষের জীবনকে কতটা বিপন্ন করে তুলতে পারে, মালদার ইংরেজবাজারের এই ঘটনা তারই এক নির্মম দৃষ্টান্ত। অনলাইন গেম খেলে বড় অঙ্কের দেনায় জড়িয়ে পড়ার পর টাকা জোগাড় করতে নিজেরই দাদুকে বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় খুন করল এক নাতি। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্যভেদ করেছে এবং দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।
কীভাবে ফাঁদ পাতল অভিযুক্তরা?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার সকালে মালদার ২ নম্বর গভর্নমেন্ট কলোনি এলাকা থেকে অর্ণব সেন (৬০) নামের এক বৃদ্ধের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। দরজা জোর করে ভাঙার কোনো চিহ্ন না থাকায় এবং ঘরে এক জোড়া চায়ের কাপ দেখে তদন্তকারীদের সন্দেহ হয় যে পরিচিত কেউ এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। তাছাড়া নিহতের মোবাইল ফোনটি ঘটনাস্থলে না থাকায় পুলিশ বুঝতে পারে সেটি নিয়ে চম্পট দিয়েছে অপরাধীরা। পরবর্তীতে ওই মোবাইল ফোনটি ট্র্যাক করেই খুব দ্রুত খুনিদের নাগাল পেয়ে যায় পুলিশ।
মালদার পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানান, তদন্তে নেমে কমলাবাড়ি এলাকা থেকে শুভজিৎ ঘোষ (২২) নামের এক যুবককে আটক করা হয়। মৃত অর্ণব সেনের সম্পর্কে সে নাতি হয়। পুলিশি জেরায় শেষ পর্যন্ত খুনের কথা স্বীকার করে শুভজিৎ। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই রাতে তার বন্ধু কৌশিক ঘোষ ওরফে পচাকেও গ্রেফতার করা হয়।
কেন এই নৃশংস খুন?
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুই অভিযুক্তই অনলাইন গেমের নেশায় আসক্ত ছিল। এই গেমে সর্বস্ব হারিয়ে শুভজিতের প্রায় তিন লক্ষ টাকা এবং কৌশিকের এক লক্ষ টাকা দেনা হয়ে গিয়েছিল। সেই বিপুল ঋণ শোধ করার টাকা জোগাড় করতেই তারা অর্ণব সেনের বাড়িতে চড়াও হয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নটা নাগাদ তারা বৃদ্ধের বাড়িতে যায় এবং রাত সাড়ে দশটার দিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় ও পেটে আঘাত করে তাঁকে খুন করে। এরপর ঘরের ভেতর টাকার খোঁজ চালায়।
ঘটনার আকস্মিকতা ও নাতির এমন নৃশংস রূপ দেখে হতবাক এলাকাবাসী। পুলিশ ধৃতদের কাছ থেকে এখনও পর্যন্ত খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র বা টাকা উদ্ধার করতে পারেনি। ধৃতদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।