সজ্জন কুমারের বাড়িতে গিয়েই চরম ফেঁসে গেলেন তিন বিজেপি সাংসদ! শুরু হয়ে গেল কড়া রাজনৈতিক তরজা

১৯৮৪ সালের শিখ বিরোধী দাঙ্গায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা সজ্জন কুমারের মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক যেন থামছেই না। এবার কংগ্রেসের গণ্ডি পেরিয়ে সেই বিতর্কের আঁচ এসে পড়ল সরাসরি পদ্মশিবিরেও। প্রয়াত ওই বিতর্কিত নেতার বাসভবনে গিয়ে সমবেদনা জানানোর অপরাধে বিজেপির তিন সাংসদকে ডেকে পাঠাল দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব। এই ঘটনার জেরে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়েছে শাসকদল।
চলতি মাসের শুরুতে ৮০ বছর বয়সে জেলের ভেতরেই জীবনাবসান হয় সজ্জন কুমারের। তাঁর মৃত্যুর পর সমবেদনা জানিয়ে কংগ্রেস নেতা দীপেন্দ্র হুডাও দলের অন্দরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। এবার ঠিক একই অভিযোগে জর্জরিত হলো বিজেপি। প্রয়াত নেতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন বিজেপির তিন সাংসদ—রামবীর সিং বিধুড়ি, যোগেন্দ্র চন্দোলিয়া এবং কমলজিৎ সেহরাওয়াত। এই তিন সাংসদের ওই পদক্ষেপ দলের নীতিবিরুদ্ধ বলে মনে করেছে হাইকম্যান্ড। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের এভাবে যাওয়া একেবারেই উচিত হয়নি। এই অসন্তোষের পরই তাঁদের তলব করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আশির দশকে শিখ বিরোধী দাঙ্গার সময় হত্যা, দাঙ্গা বাঁধানো ও উস্কানিমূলক ভাষণের মতো গুরুতর অভিযোগে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৮ সালে সজ্জন কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয় আদালত। শিখ অধ্যুষিত এলাকায় তিনি বরাবরই চরম বিতর্কিত মুখ ছিলেন। মৃত্যুর পরেও তাঁকে নিয়ে রাজনৈতিক চর্চা থামেনি। কংগ্রেসের পর এবার বিজেপি সাংসদদের তাঁর বাড়িতে যাওয়ার বিষয়টি লুফে নিয়েছে আম আদমি পার্টি (AAP)-সহ বিরোধীরা। পাশাপাশি, শিখ দাঙ্গা মামলার লড়াকু আইনজীবী এইচ এস ফুলকা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে ওই তিন বিজেপি সাংসদকে বয়কট করার ডাক দিয়েছেন। সবমিলিয়ে, সজ্জন কুমারের প্রয়াণ ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে এখন চরম শোরগোল শুরু হয়েছে।