‘হিংসা বা অরাজকতা নয়, প্রতিবাদ হোক সংবিধানের পথেই!’ লখনউয়ে দাঁড়িয়ে যুবসমাজকে কড়া বার্তা রাজনাথ সিংয়ের

যে কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক উপায়ে। হিংসা বা অসাংবিধানিক পন্থার কোনো স্থান সংবিধানে নেই। লখনউয়ের বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ঠিক এই বার্তাই দিলেন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। শুক্রবার বাবাসাহেবের ‘শিক্ষা, আন্দোলন ও সংগঠন’ মন্ত্রের গভীর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি স্পষ্ট জানান, সামাজিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সাংবিধানিক পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই। গণতন্ত্রের পরিপন্থী যে কোনো হিংসাত্মক পথকে ‘অরাজকতার ব্যাকরণ’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।

যুবসমাজ ও দেশের অগ্রগতি নিয়ে কী বললেন রাজনাথ?

অনুষ্ঠানে উপস্থিত পড়ুয়াদের উদ্দেশে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মকে ন্যায়বিচার, সমতা ও সৌহার্দ্যের আদর্শে অনুপ্রাণিত হতে হবে। প্রকৃত শিক্ষার মূল কাজ হলো যুবসমাজের মধ্যে সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা তৈরি করা। স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ স্মরণ করিয়ে তিনি তরুণদের কেবল চাকরি খোঁজার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে ‘চাকরিদাতা’ ও দেশের পরিবর্তনকামী অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে রাজনাথ সিং জানান, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেমের ক্ষেত্রে ভারত আজ আত্মনির্ভরতার নতুন ইতিহাস তৈরি করছে। দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর পর জাতীয় শিক্ষানীতি রূপায়ণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি একটি দেশকে ধনী করতে পারে, কিন্তু সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস তাকে মহান করে তোলে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে দেশের তরুণদের ‘টিম ইন্ডিয়া’র অংশ হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জোরালো আহ্বান জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *