YouTube দেখে Dragon Fruit চাষ, আকাশছোঁয়া লাভের আশা দেখছে দুই কৃষক

মহারাষ্ট্রের জালনা জেলায় জলের তীব্র অভাব এবং কম বৃষ্টির সমস্যাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নতুন দিশা দেখিয়েছেন দুই কৃষক। প্রচলিত ফসলের মায়া ছেড়ে তাঁরা বেছে নিয়েছেন কম জলের ড্রাগন ফ্রুট চাষ। মোবাইল ও ইউটিউবকে গুরু করে এবং অভিজ্ঞ কৃষকদের বাগান ঘুরে তাঁরা এই অভিনব চাষ শুরু করেছেন, যা থেকে প্রথম ফলনেই লাখ লাখ টাকা উপার্জনের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জালনার আম্বড তালুকের পিঠোরি সিরসগাঁও গ্রামের দুই কৃষক সম্ভাজি অশোক কাকড়ে এবং নারায়ণ হরিভাউ গোড়ে এই নতুন বিপ্লবের পথপ্রদর্শক। ড্রাগন ফ্রুট চাষে নামার আগে তাঁরা অনলাইনে খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করার পাশাপাশি আগে থেকেই এই চাষের সঙ্গে যুক্ত কৃষকদের বাগান ঘুরে সমস্ত পদ্ধতি স্বচক্ষে দেখে আসেন।
সম্ভাজি কাকরের সফল উদ্যোগ ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি সম্ভাজি দেড় একর জমিতে সোলাপুরের পন্ধরপুর থেকে আনা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার চারা রোপণ করেন। এই পুরো প্রক্রিয়ায় তাঁর খরচ হয়েছিল প্রায় ৬ লক্ষ টাকা। বিশেষ বিষয় হলো, গাছের জন্য প্রয়োজনীয় খুঁটি ও কাঠামো তিনি নিজেই তৈরি করেছেন, ফলে খরচ অনেকটাই কমে গেছে। তাঁর মতে, অতিরিক্ত বৃষ্টি কিংবা গরম—উভয় ক্ষেত্রেই এই গাছে রোগের আক্রমণ কম হয় এবং জলের প্রয়োজনও অত্যন্ত সীমিত। জালনার মতো খরাপ্রবণ এলাকায় এই গুণই চাষিদের সবচেয়ে বড় ভরসা। তাঁর আশা, প্রথম ফলনেই প্রায় ১৫ টন ড্রাগন উৎপাদিত হবে, যার বাজারমূল্য ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। সোলাপুর, ছত্রপতি সম্ভাজিনগর ও পুণের বাজারে উৎপাদিত ফল বিক্রি করে খরচা বাদে মোটা লাভ থাকবে বলে তিনি আশাবাদী।
নারায়ণের অভিনব প্রয়াস সম্ভাজির পথ অনুসরণ করেই একই জমিতে সফল হয়েছেন নারায়ণ হরিভাউ গোড়ে। তিনিও সোলাপুর থেকে প্রায় ৬ হাজার চারা এনে সাড়ে পাঁচ হাজার গাছ জমিতে লাগান। পরিবহণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে তাঁর প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। খুঁটি ও কাঠামো নিজে তৈরি করায় তাঁরও মোট খরচ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে। প্রথম ফলনেই তাঁর প্রায় সাড়ে সাত থেকে আট লক্ষ টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাজারে ড্রাগন ফ্রুটের স্বাস্থ্যগুণ ও চনমনে চাহিদার কথা মাথায় রেখে জালনার এই দুই কৃষক প্রমাণ করে দিয়েছেন যে সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তি ও কম জলের সদ্ব্যবহার করলে খরা অঞ্চলেও কৃষিকে অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।