প্রেমিকার হাতেই খুন কনটেন্ট ক্রিয়েটর! এনকাউন্টারে অভিযুক্তের পায়ে গুলি পুলিশের, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে

দিল্লির তিলক নগরে একুশ বছরের তরুণী কনটেন্ট ক্রিয়েটর মুকান শর্মা হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়। বৃহস্পতিবার রাতে পশ্চিম দিল্লির রাজৌরি গার্ডেন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত এনকাউন্টারের পর মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২৬ বছরের ওই যুবকের পায়ে তিনটি গুলি লেগেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত মুকান শর্মা পেশাগতভাবে বিভিন্ন ব্রাইডাল ওয়্যার ব্র্যান্ড ও মেকআপ আর্টিস্টদের সঙ্গে প্রোমোশনাল ক্যাম্পেইনে কাজ করতেন। পাশাপাশি, তিনি দিল্লি ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ ওপেন লার্নিং থেকে পড়াশোনা করছিলেন। তাঁর পরিবারে মা ছাড়াও দুই বড় বোন ও এক ছোট ভাই রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার নিজের বাড়িতে একাই ছিলেন মুকান। সেই সময় সেখানে পৌঁছায় অভিযুক্ত ইমান খান। এরপর দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ, প্রথমে ওই তরুণীকে গলা টিপে খুন করা হয় এবং পরে তাঁর বুকে ও পেটে তিনবার ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, বাড়ি থেকে আগে থেকেই ছুরি নিয়ে এসে এই ঠাণ্ডা মাথার খুন পরিকল্পনা করেছিল অভিযুক্ত।
সম্পর্ক ভাঙতেই নেমে আসে অত্যাচার
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমান খান একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি ছিল। মুকান তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইলে ওই যুবক প্রায়শই তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। এমনকি মুকানকে সে পরকীয়ার মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করত। অতীতে এই নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ জানানো হলে তাকে একটি রিহ্যাব সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল। কিছুদিন আগে সে সেখান থেকে ফিরে এসে ফের তরুণীকে বিরক্ত করতে শুরু করে। গত ২০ জুলাই একটি হোটেলেও তাদের দেখা হয়েছিল, যেখানে মুকান সাফ জানিয়ে দেন যে তিনি এই সম্পর্ক আর এগিয়ে নিয়ে যেতে চান না। খুনের পর মুকানের মোবাইল ফোনটি নিয়ে পালিয়েছিল অভিযুক্ত, যাতে সমস্ত চ্যাট বা তথ্য মুছে ফেলা যায়। পরে পুলিশ একটি নালার কাছ থেকে ফোনটি উদ্ধার করে।
সিসিটিভি ফুটেজ ও এনকাউন্টার
পশ্চিম জেলার ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসিপি) হাড়েশ্বর ভি স্বামী জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে যে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মুকানের বাড়ি থেকে বের হচ্ছে ইমান। এরপরই পুলিশ প্রায় ১৫টি টিম গঠন করে বিভিন্ন সম্ভাব্য জায়গায় তল্লাশি শুরু করে। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া এগারোটার দিকে রাজৌরি গার্ডেনের নালা রোডের কাছে তাকে ঘিরে ফেলেন তদন্তকারীরা। পুলিশ আত্মসমর্পণ করতে বললে সে দলটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা তিন রাউন্ড গুলি চালায়, যা গিয়ে লাগে অভিযুক্তের পায়ে। এরপরই তাকে কাবু করে গ্রেফতার করা হয়।
পুরনো অপরাধের রেকর্ড
পুলিশের খাতায় ইমান খানের অপরাধের লম্বা ইতিহাস রয়েছে। ২০১৮ সালে স্টকিং এবং যৌন হেনস্থার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনে মামলা রুজু হয়েছিল। এছাড়া ২০২১ সালে নরহত্যার চেষ্টার অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে। ২০১৯ সালের একটি সামাজিক মাধ্যমের ভিডিওয় তাকে বন্ধুদের সঙ্গে অস্ত্র উঁচিয়ে বসে থাকতেও দেখা গেছে। বর্তমানে তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অবৈধ অস্ত্রটির উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।