জেরক্সের দোকান থেকে উদ্ধার ৩৪০০ SIR ফর্ম! হাতেনাতে ধরা পড়তেই বিজেপি-শিবসেনা খণ্ডযুদ্ধে উত্তাল মহারাষ্ট্র

জেরক্সের দোকান থেকে ৩৪০০ এসআইআর (SIR) ফর্ম উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠেছে মহারাষ্ট্র। নবি মুম্বইয়ের খারঘরে এক বিজেপি যুবনেতা ফর্ম ফোটোকপি করাতে যাওয়ার পরই পর্দাফাস হয় এবং এর জেরে বিজেপি ও উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ইতিমধ্যেই পাঁচ জন বুথ লেভেল অফিসারকে (BLO) সাসপেন্ড করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
ঘটনাটি নবি মুম্বইয়ের খারঘরের সেক্টর ১৯ এলাকার। শুক্রবার একটি জেরক্সের দোকান থেকে প্রায় ৩৪০০ এসআইআর-এর এনিউমারেশন বা গণনা ফর্ম উদ্ধার করা হয়। জানা গিয়েছে, এই ফর্মগুলি পানভেল বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকার ভোটাররা পূরণ করেছিলেন। অভিযোগ ওঠে, বিজেপির এক যুবনেতা সূর্য পাটিল ওই হাজার হাজার ফর্ম জেরক্স করাতে দোকানে নিয়ে এসেছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ ভোটারদের পূরণ করা এতগুলি সংবেদনশীল সরকারি ফর্ম একজন রাজনৈতিক নেতার হাতে এল কী করে?
এই খবর চাউর হতেই মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার কর্মীরা। অভিযুক্ত বিজেপি নেতা সূর্য পাটিলকে ঘিরে ধরে তাঁরা জেরা শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে বিজেপি কর্মীরাও পৌঁছে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বেধে যায়।
পুলিশের পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক তরজা
খবর পেয়ে দ্রুত বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত সূর্য পাটিলকে হেফাজতে নেয়। একই সঙ্গে ওই ৩৪০০ ফর্ম বাজেয়াপ্ত করা হয়। রাইগড় জেলার জেলাশাসক কে জাওয়ালে জানিয়েছেন, সূর্য পাটিলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং গোটা ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে পাঁচ জন বিএলও-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে শিবসেনার দাবি, পুলিশ অতি তৎপরতায় ওই বিজেপি নেতাকে থানা থেকেই ছেড়ে দিয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ফর্মগুলির বেশিরভাগই ১১টি আলাদা বুথের ভোটারদের জমা দেওয়া তথ্য। এ বিষয়ে শিবসেনা (উদ্ধব) নেতা বলেশ ভোজানে কড়া আক্রমণ শানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যে, সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত ফর্ম কী উদ্দেশ্যে বিজেপি নেতার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল এবং এই বিষয়ে উচ্চ নেতৃত্ব আগে থেকে অবগত ছিল কি না। যদিও পানভেল পুরসভার মেয়র তথা বিজেপি নেতা নিতিন পাল এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনো যোগসূত্র নেই বলে দাবি করেছেন।
বিরোধী দলগুলির তীব্র আক্রমণ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা একযোগে বিজেপিকে নিশানা করেছে। মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের মুখপাত্র লোন্ধে পাটিল অভিযোগ করেছেন, অত্যন্ত সুরক্ষিত সরকারি নথি কীভাবে বিজেপি নেতার পকেটে গেল, তা খতিয়ে দেখা দরকার। অন্যদিকে, এনসিপি (শরদ পওয়ার) বিধায়ক রোহিত পাওয়ার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলে বলেন, কেবল নিচুতলার বিএলও-দের সাসপেন্ড করলেই দায় সারা যাবে না। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে নির্বাচনে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে বিজেপি। যে বা যারা এই বেআইনি কাজের নেপথ্যে রয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।