নেপালে নিখোঁজ মুকুল রায়ের পুত্রবধূ সহ বাংলার ৩৭! পরিজনদের ফোন করে যা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে নিখোঁজ রাজ্যবাসীর পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে আগে থেকেই বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করেছে রাজ্য সরকার। এবার সরাসরি ময়দানে নেমে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিজনদের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁদের সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি পরিজনদের অনুরোধে একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।
শুক্রবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে নেপালে বাংলার ৩৯ জন নাগরিক আটকে রয়েছেন। এর মধ্যে মাত্র দু’জনের সন্ধান মিললেও বাকি ৩৭ জনের এখনও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এই নিখোঁজের তালিকায় প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুকুল রায়ের পুত্রবধূও রয়েছেন। এদিন মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায় ও তাঁর কন্যার সঙ্গেও অনলাইনে কথা বলে সমবেদনা জানান এবং তাঁদের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, কসবা, দুর্গাপুর ও দমদমের মতো রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের নিখোঁজ পরিবারগুলি অনলাইনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দমদম থেকে এক মহিলা হাত জোড় করে তাঁর নিখোঁজ পরিজনকে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানালে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে শান্ত করে জানান, “হাত জোড় করবেন না, আমরা আপনাদের পাশে আছি।” মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, যে দু’জনের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে, তাঁরা বসিরহাটের বাসিন্দা এবং তাঁদের দ্রুত বিমানে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
আলোচনার সময় কসবার এক পরিবার জানতে চায়, পরিজনদের খোঁজে তাঁরা নেপালে যেতে পারবেন কি না। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার সব দিক খতিয়ে দেখছে এবং নিখোঁজদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হলেই সেখানে সরকারি প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে। পাশাপাশি, ভারত ও নেপাল সরকারের সুসম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করেন। দুর্গাপুরের একটি পরিবারের পক্ষ থেকে তথ্য আদানপ্রদানের জন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরির অনুরোধ জানানো হলে মুখ্যমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তা তৈরির নির্দেশ দেন। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, ৩৭ জনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও তাদের উদ্ধারে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে কাজ চলছে।