২০১৫-র স্মৃতি ফেরাল নেপালের মহাপ্রলয়: মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৫৮৪, নিখোঁজ আড়াই হাজার!

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যয়ের চিত্র দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৫৭৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৯৭৭ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি, চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে বুধবারের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে চিনা অংশে আরও অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে দুই দেশের সরকারি তথ্য অনুযায়ী মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮৪-তে। এছাড়া দুই দেশ মিলিয়ে প্রায় ২,৫০০ জন মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ২০১৫ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর এটিই নেপালের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা জানিয়েছে, মূলত হিমবাহ ধসে পড়ার কারণেই এই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। হিমবাহ ভেঙে হঠাৎ বরফ ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত নেমে আসায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বর্তমানে বিপর্যয়ের তৃতীয় দিনেও জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। দুর্গত এলাকাগুলিতে ১৪ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩,৭৪২ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তিব্বতের দিকে একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় শুক্রবার নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে নেপাল পুলিশ। নিরাপত্তাকর্মী থেকে শুরু করে ত্রাণকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে চিনে ধ্বংসাবশেষ জমে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ উপচে পড়তে শুরু করায় সাময়িকভাবে উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল প্রশাসন। যদিও পরবর্তীতে বিপদ কিছুটা কমায় ফের উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। তবে এই হ্রদটি নেপালের জারি করা সতর্কবার্তার সেই ধ্বংসাবশেষের বাঁধ কি না, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।
নিখোঁজ ৩২০ ভারতীয় নাগরিক
ভয়াবহ এই বন্যায় ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা থেকে আরও ২১ জন ভারতীয় নাগরিক বৃহস্পতিবার নিরাপদে কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছেন। এর আগে ত্রিশুলি ওয়ান জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৬৩ জন ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছিল। এছাড়া চিনের অংশ থেকে আরও ৯৬ জন ভারতীয় নাগরিক নিরাপদে স্থলপথে নেপালে প্রবেশ করেছেন। তবে এতকিছুর পরেও এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩২০ জন ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১০০ জনের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের সন্ধানে কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ বজায় রাখা হয়েছে।