“অফিসের পরিবেশ খারাপ দেখে মাত্র ১০ মিনিটেই চাকরি রিজেক্ট!” তারপর যা ঘটল তা রূপকথার মতো

কাজের জায়গার পরিবেশ কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে প্রায়শই নানা আলোচনা হয়। কিন্তু দিল্লির এক এন্টারপ্রেনিউর অভিষেক আগরওয়ালের শেয়ার করা একটি ঘটনা বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণভাবে ভাইরাল হয়েছে। চার রাউন্ডের কঠিন ইন্টারভিউ ও দীর্ঘ তিন সপ্তাহের প্রক্রিয়া পেরিয়ে এক চাকরিপ্রার্থী ওই সংস্থায় সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ঠিক জয়েনিংয়ের দিন অফিসে পা রেখেই তিনি এমন এক সিদ্ধান্ত নেন, যা তাক লাগিয়ে দিয়েছে সবাইকে।

কেন ১০ মিনিটের মধ্যে চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন তরুণ? নির্ধারিত দিনে অফিসে পৌঁছানোর পর ওই তরুণ লবিতে বসে লক্ষ্য করেন চারপাশের পরিবেশ। অফিসের বাতাস যেন অতিরিক্ত থমথমে, কর্মচারীরা সব হাঁপিয়ে উঠে যন্ত্রের মতো কাজ করছেন এবং কারোর মুখে বিন্দুমাত্র হাসি নেই। এরপর ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে দেখা করে তিনি হাসিমুখে সাফ জানিয়ে দেন যে, এই নেগেটিভ ও অতিরিক্ত মানসিক চাপের পরিবেশে তিনি কাজ করতে পারবেন না। এই বলে তিনি তৎক্ষণাৎ চাকরির অফার ফিরিয়ে দেন।

বসের এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: শুরুতে তরুণটির এই আচরণে বস অভিষেক কিছুটা অবাক হলেও, তিনি বিষয়টি নিয়ে রাগ না করে নিজে অফিস ঘুরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বুঝতে পারেন, তরুণের বলা প্রতিটা কথাই একেবারে সত্যি। লবি থেকে শুরু করে কর্মীদের কাজের ধরনে সত্যিই একরাশ ক্লান্তি ও হতাশা জমে ছিল। নিজের এই ভুল বা ত্রুটি লুকিয়ে না রেখে, অভিষেক সঙ্গে সঙ্গে ওই তরুণকে ফোন করেন।

চাকরি না দিয়ে দিলেন বড় দায়িত্ব: তরুণটিকে সাধারণ পদে চাকরি দেওয়ার পরিবর্তে অভিষেক তাঁকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন—যদি তাঁর এতই সমস্যা থাকে, তবে তিনি নিজেই কোম্পানির ওয়ার্ক কালচার ঠিক করে দেখান! এই অদ্ভুত চ্যালেঞ্জ সানন্দে গ্রহণ করেন ওই তরুণ। এর ফল মেলে হাতেনাতে। মাত্র তিন মাসের মধ্যে অফিসের পরিস্থিতি পাল্টে যেতে শুরু করে। কর্মচারীদের চাকরি ছাড়ার হার কমে যায় এবং কর্মী ধরে রাখার (Retention rate) হার বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ শতাংশে। শুধু তাই নয়, কোম্পানির সেলস বা বিক্রি বেড়ে যায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত! এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে মাত্র এক বছরের মাথায় সেই তরুণকে কোম্পানির চিফ পিপল অফিসার বা এইচআর হেড (HR Head) পদে উন্নীত করা হয়। এক যুবকের সাহসিকতা এবং এক বসের ইতিবাচক মানসিকতার এই দারুণ গল্প এখন নেটদুনিয়ায় দারুণ প্রশংসিত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *