“মোবাইলের ডেটা অন রেখেই ঘুমান?” শরীর থেকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট—সব শেষ হতে কতক্ষণ জানেন?

সারাদিনের ক্লান্তি শেষে বিছানায় শুয়ে ফোনটা চার্জে দিয়ে ডেটা বা ওয়াইফাই অন রেখেই ঘুমিয়ে পড়া আমাদের অনেকেরই বদভ্যাস। সকালে উঠে নোটিফিকেশন চেক করার এই ছোট অভ্যাসটিই অজান্তেই আপনার ঘুম, চোখ, ফোনের ব্যাটারি এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য ডেকে আনছে চরম বিপদ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, রাতে ডেটা অন রেখে ঘুমোলে বড় ধরনের ৫টি মারাত্মক পরিণতি হতে পারে:
১. ঘুমের গভীরতা নষ্ট হওয়া: ডেটা অন থাকা মানেই সারারাত ধরে নোটিফিকেশনের জ্বালাপোড়া। হোয়াটসঅ্যাপ বা ইনস্টাগ্রামের লাগাতার নোটিফিকেশন বা স্ক্রিনের ব্লু-লাইট মেলাটোনিন হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে ঘুম দেরিতে আসে, বারবার ভাঙে এবং সকালে ঘুম থেকে উঠেও ফ্রেশ লাগে না।
২. ব্যাটারি ও ফোনের আয়ু দ্রুত কমা: রাতে ব্যাকগ্রাউন্ডে কুড়ি থেকে ত্রিশটি অ্যাপ একসঙ্গে চলতে থাকে, যার ফলে ফোন সারারাত গরম থাকে। এই অতিরিক্ত উত্তাপ লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির সবচেয়ে বড় শত্রু। এর ফলে ব্যাটারি দ্রুত ফুলে যায়, ক্ষমতা কমে এবং অনেক সময় বিস্ফোরণের ঝুঁকিও তৈরি হয়।
৩. ডেটা, টাকা ও স্টোরেজ অপচয়: আপনি যখন গভীর ঘুমে, তখন ফোনে বড় কোনো অ্যাপের আপডেট, রিলসের প্রি-লোড বা গুগল ড্রাইভ ব্যাকআপ চলতে থাকে। ফলে সকালে উঠে দেখবেন কয়েক জিবি ডেটা হাওয়া! যাঁদের সীমিত ডেটা প্যাক, তাঁদের পকেটও কাটছে বিনা নোটিশে।
৪. হ্যাকিং ও তথ্য চুরির ঝুঁকি: সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হ্যাকাররা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে রাতের বেলায়। ডেটা বা ওয়াইফাই অন থাকলে ম্যালওয়্যার সহজেই আপনার ফোন থেকে ছবি, পাসওয়ার্ড ও ব্যাঙ্ক ওটিপি হাতিয়ে নিতে পারে।
৫. মানসিক অস্থিরতা ও শারীরিক ক্লান্তি: সারারাত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশনের কাছাকাছি থাকার ফলে ব্রেন ঠিকমতো বিশ্রাম পায় না। এর জেরে পরদিন সকালে মাথাব্যথা, মনোযোগের অভাব ও খিটখিটে মেজাজ দেখা দিতে পারে।
করণীয় কী?
-
এয়ারপ্লেন মোড: ঘুমানোর আগে ফোন এয়ারপ্লেন মোডে দিয়ে রাখুন। অ্যালার্ম ঠিক বাজবে, কিন্তু কোনো রেডিয়েশন বা নোটিফিকেশন আসবে না।
-
দূরত্ব বজায় রাখুন: ফোন বালিশের নিচে বা মাথার পাশে রাখবেন না, অন্তত ৩-৪ ফুট দূরে রাখুন।