রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের ক্যামেরায় স্ত্রীর পরকীয়া হাতেনাতে ধরলেন স্বামী! এরপর যা ঘটল জানলে চোখ কপালে উঠবে

প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে যেমন সহজ করে তোলে, তেমনই অনেক সময় তা বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাইওয়ানে ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা বর্তমানে নেটদুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এক ব্যক্তি রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের সাহায্যে স্ত্রীর পরকীয়া হাতেনাতে ধরে আইনি লড়াইয়ে ১৫ লক্ষ রুপি ক্ষতিপূরণ জিতলেও, গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে শেষ পর্যন্ত তাঁকেই জেলের ভাত খেতে হয়েছে।

‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এই ঘটনায় তাইওয়ানের এক ব্যক্তি ছুটির বাড়ির গ্যারেজে অপরিচিত এক ব্যক্তির ব্যবহৃত টুথব্রাশ দেখতে পেয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে বের হতে দেখেন তিনি। নিজের সন্দেহ পুরোপুরি দূর করতে তিনি অভিনব এক ফন্দি আঁটেন। বাড়ি থেকে দূরে বসে স্মার্টফোনের মাধ্যমে তিনি ঘরের মেঝে পরিষ্কার করার রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনারটি চালু করে দেন। ভ্যাকুয়াম ক্লিনারে থাকা ক্যামেরার লাইভ ফিড চালু হতেই তাঁর স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিকের আপত্তিকর দৃশ্য ধরা পড়ে যায়।

এই ভিডিওটিকে পরম অস্ত্র হিসেবে আদালতে পেশ করেন ওই স্বামী। আদালত মামলাটি সত্য বলে গ্রহণ করে এবং স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিককে যৌথভাবে ১৫ লক্ষ রুপি জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। মামলা জিতে স্বস্তি পাওয়ার পরেই শুরু হয় আইনি বিপদের আসল অধ্যায়।

প্রতিশোধ নিতে স্বামী অনুমতি ছাড়াই নিজের ঘরে গোপন ভিডিও রেকর্ড করেছেন—এই অভিযোগে পাল্টা মামলা ঠুকে দেন স্ত্রী। তাইওয়ানের কঠোর আইন অনুযায়ী, কারও ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ মুহূর্ত গোপনে রেকর্ড করা গুরুতর অপরাধ, যা বিবাহিত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আদালতের বিচারে স্বামীর সমস্ত যুক্তি খারিজ হয়ে যায়। আদালতের রায়ে ১৫ লক্ষ রুপি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পরও রোবট ক্লিনারের মাধ্যমে গোপনীয়তা ভঙ্গের অপরাধে ওই স্বামীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড এবং সাড়ে চার লক্ষ রুপি জরিমানা ভোগ করতে হয়। পরকীয়া ধরার এই অভিনব ডিজিটাল ফন্দি শেষ পর্যন্ত তাঁর জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রমাণিত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *