৭৯ হাজার টাকায় বাজিমাত! দেশীয় প্রযুক্তির ‘ভারত সেল’ নিয়ে বাজারে এল ওলার সবথেকে সস্তা ইলেকট্রিক স্কুটার

শুক্রবার ওলা ইলেকট্রিক মোবিলিটি তাদের নতুন এবং সাশ্রয়ী ইলেকট্রিক স্কুটার S1Z লঞ্চ করল। কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ভাবিশ আগরওয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এই ঘোষণা করে জানান যে, এই স্কুটারের মূল আকর্ষণ হল সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তাদের নিজস্ব ‘ভারত সেল’। এই স্কুটারের প্রাথমিক দাম মাত্র ৭৯,৯৯৯ টাকা রাখা হলেও, গ্রাহকদের তা হাতে পাওয়ার জন্য ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
দুটি ভ্যারিয়েন্ট ও চোখ ধাঁধানো রেঞ্জ
S1Z স্কুটারটি মূলত দুটি ভ্যারিয়েন্টে বাজারে আনা হয়েছে:
S1Z (বেস মডেল): এই মডেলের দাম ৭৯,৯৯৯ টাকা। এতে ৩.১ kWh ক্ষমতার ব্যাটারি দেওয়া হয়েছে, যা একবার চার্জ দিলে আইডিএসি (IDC) রেঞ্জ অনুযায়ী ১৭৯ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারবে।
S1Z Plus (টপ মডেল): এই ভ্যারিয়েন্টের দাম রাখা হয়েছে ৯৯,৯৯৯ টাকা। এতে ৫.১ kWh-এর শক্তিশালী ব্যাটারি রয়েছে, যা এক চার্জে তাক লাগানো ৩০০ কিলোমিটারের বেশি অর্থাৎ ৩০১ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ দেবে।
উভয় স্কুটারেরই সর্বোচ্চ গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ৭০ কিমি এবং দুটিতেই ৪ কিলোওয়াট পিক মোটর ও সংস্থার নিজস্ব এলএফপি (LFP) সেল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ভাবিশ আগরওয়াল দাবি করেছেন যে, ওলা সাধারণত সস্তার স্কুটার মানে কম রেঞ্জ ও কম প্রযুক্তি বোঝায় না; বরং তারা নিজেদের সেল, মোটর এবং সফটওয়্যার সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করেছে।
দেশীয় প্রযুক্তির ‘ভারত সেল’ ও আধুনিক ফিচার
ওলার এই স্কুটারের সবথেকে বড় প্রযুক্তিগত মাইলফলক হল তাদের নিজেদের তৈরি LFP ব্যাটারি বা ‘ভারত সেল’। ভারতেই ডিজাইন ও উৎপাদিত এই ব্যাটারির জন্য সংস্থার ৪২৬টি পেটেন্ট রয়েছে। ওলার দাবি অনুযায়ী, এই ব্যাটারির আয়ু ১৫ বছরেরও বেশি এবং এটি চরম আবহাওয়া অর্থাৎ মাইনাস ৩০ ডিগ্রি থেকে প্লাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেও সমানভাবে কাজ করতে সক্ষম।
কম দাম হলেও প্রযুক্তিতে কোনো কমতি রাখেনি ওলা। দুটি ভ্যারিয়েন্টেই গ্রাহকরা পেয়ে যাবেন MoveOS 5। এর মাধ্যমে ওভার-দ্য-এয়ার (OTA) আপডেট, জিপিএস ট্র্যাকিং, রাইড স্ট্যাটিস্টিক্স এবং ওলা অ্যাপের মাধ্যমেই জিও-ফেন্সিং ও টাইম-ফেন্সিংয়ের মতো আধুনিক সব সুবিধা উপভোগ করা যাবে।
ডেলিভারি ও বাজারের প্রতিক্রিয়া
গ্রাহকদের প্রাথমিক মডেলের জন্য ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং S1Z Plus মডেলের ডেলিভারির জন্য ২০২৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ওলার এই ধামাকাদার লঞ্চের পর শেয়ার বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ঘোষণার দিন দুপুরের দিকে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে ওলার শেয়ারের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৯.১০ টাকায় পৌঁছায়। কম দামে দুর্দান্ত রেঞ্জ এবং দেশীয় প্রযুক্তির এই স্কুটার ভারতীয় বাজারে ইলেকট্রিক টু-হুইলারের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দেবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।