নায়িকার সামনে নগ্ন যশ, পর্দায় অতিরিক্ত যৌনতা, ধুলিস্যাৎ হল কি ‘টক্সিক’-এর ম্যাজিক?

‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’-এর ব্লকবাস্টার সাফল্যের দীর্ঘ চার বছর পর অবশেষে বড় পর্দায় ফিরেছেন দক্ষিণী সুপারস্টার যশ। তাঁর কামব্যাক ছবি ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রাউন-আপস’ মুক্তি পেতেই সিনেমাহলে ভক্তদের ঢল নেমেছে। একদিকে স্ক্রিন জুড়ে যশের খ্যতনামা সোয়াগ, আর অন্যদিকে কিয়ারা আদবাণীর হট ও সিজলিং উপস্থিতি—সব মিলিয়ে মুক্তির আগে থেকেই ছবিটিকে ঘিরে উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। কিন্তু প্রথম দিনের প্রথম শো হাউসফুল হওয়ার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ‘কেজিএফ’-এর উচ্চাশা কি আদৌ পূরণ করতে পারল এই ছবি?

গীতু মোহনদাসের পরিচালনায় তৈরি এই ডার্ক গ্যাংস্টার ঘরানার ছবিতে যশের পাশাপাশি নয়নতারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া এবং রুক্মিণী বসন্তর মতো তারকারাও রয়েছেন। তিন ঘণ্টার বেশি দৈর্ঘ্যের এবং ‘এ’ সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত এই পিরিয়ড ড্রামাটির প্রেক্ষাপট শুরু হয় ১৯৪৭ সালের গোয়া থেকে এবং তা প্রায় কুড়ি বছর সময়সীমা পার করে। গল্পে রায়া চরিত্রে অভিনয় করা যশকে এক আলফা পুরুষের ভূমিকায় দেখা গেছে, যার প্রধান ভূষণই হলো রক্তপাত ও হিংসা। পুরনো হলিউডের গ্যাংস্টার ক্লাসিক ও ‘দ্য গডফাদার’-এর আদলে তৈরি এই ছবি দর্শকদের কোথাও না কোথাও ‘অ্যানিমেল’ ছবির কথাও মনে করিয়ে দেবে।

তবে ছবির বিশাল বাজেট, চোখ ধাঁধানো ভিজ্যুয়াল, দুর্দান্ত অ্যাকশন ও যশের দ্বৈত ভূমিকা প্রাথমিক নজর কাড়লেও, সমালোচকদের একাংশের মতে ছবিটির চিত্রনাট্য বেশ দুর্বল এবং এর গতি অত্যন্ত ধীরগতির। অবিরাম হিংসা ও রক্তপাতের জেরে গল্পের মূল আবেগপূর্ণ জায়গাটি অনেকটাই ঢাকা পড়ে গেছে। তাছাড়া, রোম্যান্টিক দৃশ্যগুলিতে অতিরিক্ত যৌনতার উপস্থিতি সাধারণ দর্শকের মন কতটা জয় করতে পারবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সংশয় তৈরি হয়েছে। অভিনয় এবং কিয়ারার গ্ল্যামারাস লুকে কোনও খামতি না থাকলেও, ছবির চড়া মাত্রার হিংসা এবং আলগা চিত্রনাট্য শেষ পর্যন্ত বক্স অফিসে কতটা রাজত্ব করবে, সেটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *