ওয়াই-ফাইয়ের স্পিড নিয়ে নাজেহাল? ঘরে এই ছোট্ট ভুলটি করছেন না তো! জানলে আজই বদলাবেন

ইন্টারনেট ছাড়া আজকের দিনে জীবন একপ্রকার অসম্ভব। তবে ভালো প্ল্যান বা হাই-স্পিড ব্রডব্যান্ড কানেকশন থাকার পরেও অনেক সময় ঘরের কোণে বসে ওয়াই-ফাইয়ের স্পিড নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। আমরা প্রায়ই এর জন্য ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার বা নেটওয়ার্ক কোম্পানিকে দোষারোপ করি, কিন্তু আসল সমস্যাটা লুকিয়ে থাকে আমাদেরই অজান্তে রাউটারের ভুল স্থানে বসানোর মধ্যে। সঠিক জায়গায় রাউটার রাখলে পুরো বাড়িতেই ইন্টারনেটের গতি দ্বিগুণ করা সম্ভব।
কোথায় রাখা উচিত রাউটার?
বাড়ির মাঝখানে রাখুন: ঘরের যে কোনো এক কোণে, জানালার কাছে বা বাইরের দেয়ালের গায়ে রাউটার রাখলে দেয়াল ও দূরত্বের কারণে সিগন্যাল অন্য ঘরে পৌঁছাতে বাধা পায়। তাই বাড়ির ঠিক মাঝখানের কোনো খোলা জায়গায় রাউটার বসালে সিগন্যাল সব ঘরে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
মাটিতে বা ক্যাবিনেটে নয়: ঘরের সৌন্দর্য বজায় রাখতে অনেকেই রাউটার আলমারি, ড্রয়ার বা টিভি ক্যাবিনেটের ভেতরে লুকিয়ে রাখেন কিংবা সোজা মেঝেতে রাখেন। এর ফলে ওয়াই-ফাই সিগন্যাল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। রাউটার সবসময় মাটি থেকে কিছুটা উঁচুতে, টেবিল বা তাকের ওপর এবং খোলা জায়গায় রাখা উচিত।
ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন: মাইক্রোওয়েভ ওভেন, বড় ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বা প্রচুর লোহা বা ধাতুযুক্ত বস্তুর কাছাকাছি রাউটার রাখা একদমই উচিত নয়। এই জিনিসগুলো ওয়াই-ফাই সিগন্যালকে দুর্বল করে দেয়। যত কম জিনিসের সংস্পর্শে রাউটার থাকবে, ইন্টারনেট স্পিড তত বেশি ভালো পাওয়া যাবে।
ব্যান্ডউইথ ও দোতলা বাড়ির জন্য টিপস
সাধারণত ওয়াই-ফাইয়ে ২.৪ গিগাহার্জ এবং ৫ গিগাহার্জ—এই দুটি ব্যান্ড থাকে। রাউটারের কাছাকাছি থাকলে ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডে সুপারফাস্ট স্পিড পাওয়া যায়, তবে এর পরিসর কম। অন্যদিকে, ২.৪ গিগাহার্জ ব্যান্ডের পরিসর বেশি এবং এটি সহজেই দেয়াল ভেদ করতে পারে। তাই ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে সঠিক ব্যান্ড বেছে নেওয়া জরুরি। এছাড়া দোতলা বাড়ির ক্ষেত্রে রাউটারটি কিছুটা উঁচুতে এমন স্থানে রাখা উচিত যাতে উভয় তলাতেই নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। নতুন কোনো দামি প্ল্যান বা গ্যাজেট কেনার আগে তাই একবার রাউটারের স্থান পরিবর্তন করেই ম্যাজিকটি দেখে নিতে পারেন।