ভয়ঙ্কর বিপদের আশঙ্কা সত্যি! চিনে শক্তিশালী ভূমিকম্পের জেরে ফেটে গেল লেক, ধেয়ে আসছে জলের সুনামি?

বিপদের আশঙ্কা আগেই করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্যি হলো। নেপালের চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝেই এবার চিনে আঘাত হানল শক্তিশালী ভূমিকম্প। আর সেই কম্পনের জেরে চিন-তিব্বত সীমান্তে তৈরি হওয়া একটি অস্থায়ী লেক ফেটে যাওয়ায় নেপালে নতুন করে বড় বিপদের কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে।
চিনের সরকারি সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার চিনের সিচুয়ান প্রদেশের লংচ্যাং শহরে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.১। স্থানীয় সময় অনুযায়ী দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার গভীরে। চেঙ্গডু ও চোঙ্গকুং-এর মতো পার্শ্ববর্তী অঞ্চলেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। যদিও চিনের তরফে এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর প্রকাশ করা হয়নি।
তবে এই ভূকম্পনের সবচেয়ে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তিব্বত সীমান্তে। সম্প্রতি চিন-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ভেঙে একটি বিশাল অস্থায়ী লেক তৈরি হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা ছিল, সামান্য ধাক্কা লাগলেই সেই লেক ফেটে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। শুক্রবারের ভূমিকম্পের জেরে তিব্বত সীমান্তের কাছে চোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সঙ্গমস্থলে সেই লেকটি অবশেষে ফেটে যায়।
লেকের জল উপচে তীব্র বেগে নেপালের দিকে ধেয়ে আসার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডুকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে বেজিং। বিশেষ করে নেপালের রসুয়া জেলায় মারাত্মক হড়পা বানের প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তিব্বত-চিন সীমান্তে সাময়িকভাবে উদ্ধারকাজ বন্ধ রেখেছে চিন। অন্যদিকে, নেপাল প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সীমান্ত এলাকার পুলিশ কর্মী, নিরাপত্তা বাহিনী এবং উদ্ধারকারী দলগুলিকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।