‘যোগ্য না হয়েও অনেকে টাকা পাচ্ছে!’ অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিরাট তথ্য ফাঁস করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু!

অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) ও ভাতার বন্টন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ফের তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতি নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি পোর্টালের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অনেকে এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন বলে প্রচুর অভিযোগ জমা পড়েছে।

দিনকয়েক আগে একটি সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অন্নপূর্ণা যোজনা সংক্রান্ত অভিযোগ জমা দেওয়ার জন্য একটি পোর্টাল চালু করা হয়েছে। গত ২৫ আগস্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই তাতে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ অভিযোগ জমা পড়েছে। সাধারণ মানুষ কেবল নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্তির (Inclusion) জন্যই নয়, বরং বহু অযোগ্য ব্যক্তি কীভাবে এই সুবিধা পাচ্ছেন, সেই মর্মে বাদ দেওয়ার (Exclusion) বা অভিযোগের জন্যও আবেদন জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, ৩১ অগাস্টের পর পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত পদক্ষেপ করা হবে।

উল্লেখ্য, অন্নপূর্ণা ভাতা নিয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে তিনি আক্রমণ করে বলেন, “কেন মেয়েরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাচ্ছে না? দেখে দেখে দিচ্ছেন। চেখে চেখে দিচ্ছেন। বর্ণ দেখে দিচ্ছেন।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদের পাশাপাশি কড়া ভাষায় তার পাল্টা জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “ধর্ম-বর্ণ… বর্ণ নয় ধর্ম, মানে কী ইঙ্গিত করেছেন! এখনও অবধি ১ কোটি ৪৫ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪৭২ জনের অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার হয়ে গেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র মুসলিম সুবিধাভোগীই রয়েছেন ১৯ লক্ষ ২০ হাজার।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল জমানার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের নাম বদলে বিজেপি সরকারের আমলে তা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় রূপান্তরিত হয়েছে। আগের দেড় হাজার টাকার বরাদ্দ বিজেপির আমলে বেড়ে দ্বিগুণ অর্থাৎ তিন হাজার টাকা হলেও, অনেকেই সেই টাকা সময়মতো না পাওয়ায় বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আর এই ইস্যুতে বর্তমানে প্রাক্তন ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর বাগযুদ্ধে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *