রাজ্যে ৪৩ হাজার পুলিশ নিয়োগের বিরাট ঘোষণা! লালবাজার থেকে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

তারাতলা গুদাম বিপর্যয় থেকে নিউ মার্কেট অগ্নিকাণ্ড— বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশের দ্রুত তৎপরতার বারবার প্রশংসা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার লালবাজারে কলকাতা পুলিশের একটি পদক প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে পুলিশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের পরিকাঠামো আধুনিকীকরণ ও শূন্যপদ পূরণে একগুচ্ছ বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করেন তিনি।

বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে তারাতলা গুদাম বিপর্যয়ে দ্রুত উদ্ধারকাজের জন্য কলকাতা পুলিশের ১০ জন কর্মীকে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ, কলকাতার পুর প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা এবং মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। বক্তৃতায় পুলিশ মন্ত্রী হিসেবে গ্রাউন্ডে কাজ করা কর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও জনবল সংকট কাটাতে বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্যে প্রতি এক লক্ষ মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র ১০৬ জন পুলিশকর্মী। এই সংখ্যা বাড়িয়ে অন্তত ২০০ জনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে রাজ্যে প্রায় ৪৩ হাজার শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ওবিসি সংক্রান্ত জট কাটিয়ে অবিলম্বে রিক্রুটমেন্ট বোর্ডকে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

জরুরি পরিষেবা উন্নত করতে থানার গাড়ির সংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তরপ্রদেশের মতো মাত্র ছয় মিনিটে যাতে পুলিশি সহায়তা পৌঁছায়, তার জন্য প্রতিটি থানায় জরুরি পরিষেবা ‘১১২’-র জন্য চারটি করে ডেডিকেটেড গাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রথম দফায় একটি করে গাড়ি মহালয়ার দিন চালুর কথা বলা হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপে আরও গাড়ি সরবরাহ করা হবে।

নিচুতলার পুলিশ কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু সুসংবাদ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী অক্টোবর মাস থেকে পুলিশকর্মীদের রেশন বাবদ অনুদান দেড় হাজার থেকে বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ২০ শতাংশ ডিএ সহ অগ্রিম বেতন পাওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। মহিলা পুলিশ কর্মীদের যথাসম্ভব কাছাকাছি পোস্টিং দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। পুলিশের ওয়েলফেয়ার বোর্ড প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, এই বোর্ডের জন্য পুলিশকর্মীদের সামান্য বেতন থেকে কোনো ধরনের চাঁদা কাটার প্রয়োজন নেই, এর সমস্ত খরচ সরকার বহন করবে এবং আলাদা ফান্ড দেওয়া হবে।

দুর্নীতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঝাড়গ্রামে এক কনস্টেবল টাকা সহ ধরা পড়ার ঘটনা উল্লেখ করে পুলিশকর্মীদের লোভ সংবরণ করার তাগিদ দেন তিনি। আগামী মাসের মধ্যেই দুর্নীতি দমন শাখা বা এসিবিকে আরও শক্তিশালী করে তোলার ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রহিত ও দেশপ্রেমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আর জি কর বা পকসো আইনের মতো সংবেদনশীল মামলাগুলিতে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে কঠোর পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *