মুকেশ আম্বানির কোম্পানির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ! কড়া ভাষায় সমস্ত দাবি উড়িয়ে দিল রিলায়েন্স!

এএসসেল গ্রুপ (Essel Group)-এর চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্রের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য এবং মিডিয়া ব্যবসার অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ ঘিরে সম্প্রতি কর্পোরেট জগতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই পুরো বিতর্কের কড়া জবাব দিয়ে ২৬ আগস্ট ২০২৬-এ একটি অফিসিয়াল মিডিয়া বিবৃতি জারি করেছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (RIL)। কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুভাষ চন্দ্রের তোলা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য।

রিল্যায়েন্সের সরকারি অবস্থান কী?

রিল্যায়েন্সের কর্পোরেট কমিউনিকেশনস (মুম্বই) বিভাগ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রিল্যায়েন্সের মালিকানাধীন কোনো মিডিয়া ব্র্যান্ডের অপব্যবহার কখনই করা হয়নি এবং কাউকে ব্যক্তিগতভাবে নিশানা করার জন্য এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়নি। একই সঙ্গে, একজন অভিজ্ঞ শিল্পপতি ও উদ্যোক্তা হিসেবে সুভাষ চন্দ্রের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখেই রিলায়েন্স জানিয়েছে যে এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

২২ হাজার কোটি টাকার সেই বিতর্ক আসলে কী?

ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল (NCLT)-এর একটি রায়ের পরেই এই পুরো বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী, ব্যক্তিগত দেউলিয়া ঘোষণা সংক্রান্ত একটি মীমাংসায় সুভাষ চন্দ্রকে প্রায় ২২,০০৬ কোটি টাকার দাবি করা দাবির বিপরীতে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে মাত্র ৬.২৫ কোটি টাকা দিতে বলা হয়েছে।

  • হেয়ারকাট ও ভুল বোঝাবুঝি: এই রিমার্কেবল সেটেলমেন্টের পর লেন্ডার্স বা ঋণদাতাদের জন্য এটিকে ৯৯.৯৭ শতাংশের বড়সড় ‘হেয়ারকাট’ (লোকসান) বলে প্রচার করা হলেও সরকারি সূত্রের দাবি, এই ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। মূলত ‘विवेक इन्फ्राकॉन’ (Vivek Infracon) সংস্থার পক্ষে ইন্ডিয়াবুলসের নেওয়া ঋণের জন্য সুভাষ চন্দ্র পার্সোনাল গ্যারান্টার (Personal Guarantor) থাকায় তাঁর ওপর এই পরিমাণ অঙ্কের দাবি তৈরি হয়েছিল, যা তাঁর নিজের সরাসরি নেওয়া ঋণ ছিল না।

  • NCLT-এর রায়: ট্রাইব্যুনাল সমস্ত দিক বিবেচনা করে দেখেছে যে সুভাষ চন্দ্রের মোট ব্যক্তিগত সম্পত্তি দাবিকৃত অঙ্কের চেয়ে অনেক কম। তাই ঋণদাতাদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে এবং অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতি এড়াতেই এই সেটেলমেন্ট প্ল্যানকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রায় ৮১ শতাংশ ঋণদাতার ভোট সমর্থনও ছিল।

ব্যবসায়িক মহলের মতে, দুই হেভিওয়েট শিল্পপতির এই সংঘাতে আগামী দিনে আরও নতুন কোনো মোড় আসতে পারে কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে পুরো দেশের।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *