চিনির পর এবার পেঁয়াজে হাত! হু হু করে বাড়ছে দাম, বাজার সামলাতে বিরাট মাস্টারস্ট্রোক কেন্দ্রের

চিনির পর এবার রান্নার অন্যতম প্রধান উপাদান পেঁয়াজের দামেও (Onion Price Hike) আগুন লাগতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন বাজারে ইতিমধ্যেই পেঁয়াজের দাম ৫০ টাকার গণ্ডি পার করে ফেলেছে। আসন্ন উৎসবের মরসুমে এই মূল্যবৃদ্ধি যাতে সাধারণ মানুষের পকেটে বড় ধাক্কা না দেয়, তার জন্য তক্ষণাৎ ময়দানে নেমেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিক বড়সড় পদক্ষেপ করা হয়েছে।

বাফার স্টক থেকে পেঁয়াজ সরবরাহ ও স্পেশাল ট্রেন
বাজারে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত জোগান সুনিশ্চিত করতে বাফার স্টক থেকে ধাপে ধাপে এবং চাহিদা অনুযায়ী পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পেঁয়াজ দ্রুত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিতে রেল এবং সড়কপথকে কাজে লাগানো হচ্ছে। এর জন্য বিশেষ ট্রেন ‘কান্দা এক্সপ্রেস’ চালু করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছে প্রথম ‘কান্দা এক্সপ্রেস’।

রেল সূত্রে খবর, গত বছর ১৪টি রেল রেকের মাধ্যমে প্রায় ১২,০০০ টন পেঁয়াজ দেশের ৫টি শহরে পাঠানো হলেও, এই বছর সেই পরিসর আরও বাড়ানো হয়েছে। এ বছর মোট ৮৬টি রেল রেকের মাধ্যমে প্রায় ৮৮,০০০ টন পেঁয়াজ দেশের ১৬টি শহরে পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কপথেও চেন্নাই, কলকাতা, এর্নাকুলাম, গুয়াহাটি, বারাণসী, লখনউ, পটনা, চণ্ডীগড়, জম্মু এবং অমৃতসরে পেঁয়াজ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি ও সরকারের প্রস্তুতি
কেন্দ্রীয় সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগের জেরে সাধারণ মানুষ মাত্র ৩৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনতে পারবেন। জাতীয় সমবায় ভোক্তা ফেডারেশন (NAFED), জাতীয় সমবায় ভোগ্যপণ্য ফেডারেশন (NCCF), সফল এবং কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারের বিভিন্ন আউটলেট ও মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমে এই সুলভ মূল্যের পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে।

সরকার জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশে প্রায় ৩০৭.৩৭ লক্ষ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। ২০২৬-২৭ সালের জন্য ২ লক্ষ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বাফার স্টক হিসেবে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ১.২১ লক্ষ মেট্রিক টন পেঁয়াজ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। এমনকি এই প্রথমবার সেন্ট্রাল ওয়ারহাউসিং কর্পোরেশন-কে বাফার স্টকের পেঁয়াজ সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

উৎসবের মরসুম ও নজরদারি
ওনাম, গণেশ চতুর্থী, দুর্গাপুজো, দশেরা, দিওয়ালি এবং বিয়ের মরসুমে সাধারণত দেশে পেঁয়াজের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। ফলে এই সময় দাম চড়ার একটা আশঙ্কা থেকেই যায়। সেই কথা মাথায় রেখেই আগেভাগে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ জোগান সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকায় মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং নেপালের মতো দেশগুলিতে পেঁয়াজ রফতানিও অব্যাহত রেখেছে ভারত।

বাজারের পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখতে দেশের ৫৭৯টি কেন্দ্রে প্রতিদিন ৪১টি অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম পর্যবেক্ষণ করছে কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক দফতর। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টমেটো, আলু এবং ছোলা ডালের দাম গত বছরের তুলনায় নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আগামী দিনগুলিতেও পেঁয়াজের সরবরাহ ও চাহিদার ওপর কড়া নজর রাখা হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে আরও বড় পদক্ষেপ করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *