আমেরিকায় ১ কোটি টাকা আয় করেও কেন কাঙাল দশা? বিস্ফোরক দাবিতে নেটপাড়ায় ঝড় তুললেন প্রবাসী ভারতীয়!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বছরে প্রায় ১ কোটি টাকা উপার্জন করা সত্ত্বেও সেখানে সঞ্চয় করা একপ্রকার অসম্ভব! সম্প্রতি এমনই এক বিস্ফোরক দাবি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছেন প্রবাসী ভারতীয় নিতিন মালহোত্রা। গত ১৫ বছর ধরে আমেরিকায় বসবাসকারী এই যুবকের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এখন নেটপাড়ায় তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নিতিনের দাবি, আমেরিকার বিশাল অঙ্কের বেতন দেখে দূর থেকে লোভনীয় মনে হলেও, সেখানকার আকাশছোঁয়া খরচ এবং করের যাঁতাকলে পিষে গিয়ে শেষ পর্যন্ত হাতে কার্যত কিছুই থাকে না। এর চেয়ে ভারতে ২৫ লক্ষ টাকার বেতনেই অনেক বেশি সঞ্চয় করা সম্ভব ছিল বলে মত তাঁর।
আমেরিকায় নিতিনের মাসিক আয়ের হিসেব দেখলে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হবে। তিনি প্রতি মাসে ৮,০০০ ডলার অর্থাৎ প্রায় ৭ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা আয় করেন। কিন্তু তাঁর ব্যয়ের ফর্দ এতটাই দীর্ঘ যে মাস শেষ হতে না হতেই পকেট ফাঁকা হওয়ার জোগাড় হয়। নিতিনের মাসিক খরচের খতিয়ান অনুযায়ী, গৃহঋণের ইএমআই বাবদ ২,৫০০ ডলার এবং কর বাবদ ১,৫০০ ডলার—এই দুটি খাতে প্রতি মাসেই সোজা চলে যায় প্রায় ৪,০০০ ডলার। এখানেই শেষ নয়, স্বাস্থ্য বীমার জন্য মাসে ৫০০ ডলার এবং দুটি গাড়ির বীমা বাবদ আরও ১,০০০ ডলার খরচ হয় তাঁর।
খাদ্য ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের ধাক্কাও কম নয়। পরিবারটির মুদি এবং রান্নার খাবারের পেছনেই প্রতি মাসে ১,০০০ থেকে ১,২০০০ ডলার খরচ হয়। এর বাইরে চিকিৎসা, ওষুধপত্র এবং নানা ধরনের বিল মেটাতে খরচ হয় আরও ৫০০ থেকে ৮০০ ডলার। সমস্ত বাধ্যতামূলক খরচ চুকিয়ে মাসান্তে নীতিনের হাতে মোটে ১,০০০ থেকে ১,২০০ ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় মাত্র ৮৫ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকার মতো অবশিষ্ট থাকে।
তুলনা টানতে গিয়ে নিতিন জানান, একসময় ভারতে কাজ করার সময় তাঁর বার্ষিক বেতন ছিল মাত্র ২৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু সেখানে ৩০,০০০ টাকা বাড়িভাড়া এবং জীবনযাত্রার তুলনামূলক কম খরচের কারণে তিনি প্রতি মাসেই অবলীলায় ১ লক্ষ থেকে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জমাতেন। তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর স্ত্রী যদি চাকরি করতেন, তবে এখানকার ডে-কেয়ার বা শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের খরচ জোগাতেই তাঁদের সমস্ত সঞ্চয় শেষ হয়ে যেত। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিককালে জাপানের অর্থনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনেও অনেকে মন্তব্য করেছেন যে উন্নত দেশের চাকরিতে জীবনযাত্রার মানের চেয়ে সঞ্চয়ের অঙ্ক অনেক সময় বড় হয়ে দাঁড়ায়।
নীতিনের এই পোস্ট সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর তরজা। একদল নেটিজেন মনে করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত জীবনযাত্রার মান, চমৎকার পরিকাঠামো এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশের সুযোগ থাকলেও সেখানে চাকরির স্থায়ী অনিশ্চয়তা এবং লাগাতার মুদ্রাস্ফীতি মধ্যবিত্তের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে। আবার অন্য একটি অংশের মতে, আমেরিকার জীবনযাত্রার সঙ্গে ভারতের তুলনা করা একপ্রকার বোকামি, কারণ দুই দেশের জীবনশৈলী এবং ব্যয় বরাদ্দের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা।