প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের পাশের বস্তি সরাতে কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের! চরম বিপাকে ৩৫০-এর বেশি পরিবার

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবন চত্বরের অত্যন্ত সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা তিনটি অবৈধ বস্তি খালি করার জন্য চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিল দিল্লি হাইকোর্ট। লোককল্যাণ মার্গ সংলগ্ন ওই চত্বরে বসবাসকারী প্রায় সাড়ে তিনশোটিরও বেশি পরিবারকে আগামী ছ’ সপ্তাহের মধ্যে এলাকা ছেড়ে সরকারের নির্ধারিত পুনর্বাসন কেন্দ্রে চলে যাওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানি চলাকালীন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, লোককল্যাণ মার্গ (প্রাক্তন রেসকোর্স রোড) সংলগ্ন বিআর ক্যাম্প, মসজিদ ক্যাম্প এবং ডিআইডি কলোনি—এই তিনটি বস্তি অনতিবিলম্বে ফাঁকা করতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে জায়গা খালি না করলে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশি সহযোগিতায় জোরপূর্বক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং ওই ভিভিআইপি এলাকার সার্বিক মানোন্নয়নের স্বার্থেই এই তিনটি বস্তি অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছিল কেন্দ্র। এর আগে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস’-এর তরফে সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের গত ৬ মার্চের মধ্যে বসতি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শুধু উচ্ছেদ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মাথার ছাদ সুনিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থা ‘দিল্লি আরবান শেল্টার ইমপ্রুভমেন্ট বোর্ড’ (DUSIB)-এর মাধ্যমে বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থাও করেছিল কেন্দ্র। সাভদা ঘেভরা অঞ্চলের ডিইউএসআইবি কলোনিতে পরিবারগুলির জন্য পৃথক ফ্ল্যাটও বরাদ্দ করা হয়েছিল।
তবে অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও বাসিন্দারা সাভদা ঘেভরার বিকল্প ফ্ল্যাটে স্থানান্তরিত না হয়ে পুরনো ঠিকানাতেই বহাল তবিয়তে রয়ে গিয়েছেন। এর ফলেই এতদিন আটকে ছিল উচ্ছেদ প্রক্রিয়া। অবশেষে আদালত অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়ে বস্তিবাসীদের জন্য চূড়ান্ত ছ’ সপ্তাহের সময়সূচি নির্ধারণ করে দিল।