“সুদিনের বেলুন ফুটো!” ১৩ বছরের হিসেব কষে মোদী সরকারকে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে কড়া আক্রমণ মল্লিকার্জুন খাড়গের

দেশে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও লাগামছাড়া দ্রব্যমূল্য নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর অভিযোগ, বিগত ১২ বছর ধরে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় থাকলেও সাধারণ মানুষের জীবনে ‘সুদিন’ তো আসেইনি, বরং দ্রব্যমূল্যের ছ্যাঁকায় রান্নাঘরের বাজেট পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। কখনও ডাল, কখনও সবজি, আবার কখনও তেল বা চিনির আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

অন্যদিকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে সরকার: খাড়গে
খাড়গে অভিযোগ করেছেন যে, দেশ এই মুহূর্তে চরম মুদ্রাস্ফীতিতে ভুগলেও কাজের কাজ না করে কেবল মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার কৌশল এবং ভিত্তিহীন কথাবার্তায় ব্যস্ত রয়েছে শাসক দল। তবে যতই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হোক না কেন, কংগ্রেস যে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এই ইস্যু নিয়ে বরাবর সোচ্চার থাকবে, সে কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে পেঁয়াজ, চিনি এবং ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগাতার ঊর্ধ্বমুখী দামের পরিসংখ্যান তুলে ধরে আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি।

২০১৩ বনাম ২০২৬: একনজরে দাম বৃদ্ধির খতিয়ান
মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার ঠিক আগের সময় অর্থাৎ ২০১৩ সালের মে মাস এবং বর্তমান ২০২৬ সালের অগাস্ট মাসের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছেন খাড়গে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিগত তেরো বছরে প্রায় প্রতিটি জিনিসের দামই বেড়েছে কয়েকশো গুণ:

টমেটো: ১৩ বছর আগে প্রতি কেজি ১৭.৫০ টাকা থাকলেও, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা (অর্থাৎ প্রায় ৫৮৫ শতাংশ ব্যাপক বৃদ্ধি)।

ময়দা: ২১ টাকা থেকে বেড়ে সোজা ৬৯ টাকায় পৌঁছেছে (প্রায় ২২৮ শতাংশ বৃদ্ধি)।

পেঁয়াজ: ২৩ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ টাকায় (প্রায় ২১৭ শতাংশ বৃদ্ধি)।

সর্ষের তেল: ১০২ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৬৩ টাকা (১৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি)।

এছাড়া তুর, উরদ ও ছোলার মতো বিভিন্ন ডালের দামও গড়ে ১৪০ থেকে ১৫৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

চাল-ডাল থেকে তেল-চিনি, দ্বিগুণেরও বেশি খরচ
সবজি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যই যে এই মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা খাড়গের পরিসংখ্যানে স্পষ্ট। দুধ, চিনি, তেল ও ডালের মতো মৌলিক খাদ্যপণ্যের দাম বর্তমান বাজারে দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে। খাড়গের কথায়, যখনই দেশের সাধারণ মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার এবং মূল্যবৃদ্ধির মতো জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখনই নানা রকম উদ্ভট মন্তব্য ও রাজনৈতিক কৌশলে সেই প্রশ্নগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। আর এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আর যাই হোক, সাধারণ মানুষের পেট ভরানো যায় না—জনগণের এখন প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট সমাধান ও প্রতিকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *